• ২০২৬ Jul ৩১, শুক্রবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সাইবার সুরক্ষা আইন আরও কঠোর হচ্ছে, গুজব-অপতথ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা প্রস্তাব

  • প্রকাশিত ০২:০৭ পূর্বাহ্ন শুক্রবার, Jul ৩১, ২০২৬
সাইবার সুরক্ষা আইন আরও কঠোর হচ্ছে, গুজব-অপতথ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা প্রস্তাব
Time Bangla news
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

সাইবার সুরক্ষা আইন আরও কঠোর হচ্ছে, গুজব-অপতথ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা প্রস্তাব


দেশে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইন আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন সংশোধনীতে গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে তথ্য বা কনটেন্ট প্রচারকে আরও স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অপরাধের জন্য বিদ্যমান শাস্তির পরিধিও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সমন্বয়ে প্রস্তুত হওয়া খসড়ায় আইন প্রয়োগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থার ভূমিকা রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, আইনে নতুন ২৬(ক) ধারা সংযোজনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেউ যদি সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ কিংবা প্রচার করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ‘গুজব’ বলতে এমন অযাচাইকৃত বা অসমর্থিত তথ্য, সংবাদ কিংবা দাবি বোঝানো হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে কিংবা এমন ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে ‘অপতথ্য’ বলতে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ বা প্রচার করা এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জনসাধারণ বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা।

এছাড়া আইনটির ২৫ নম্বর ধারায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে মানহানি ও কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অডিও, ভিডিও, ছবি, গ্রাফিকস বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের মানহানিকর বা হেয়প্রতিপন্নকারী কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির বিষয়টি দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার আলোকে ব্যাখ্যা করার কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার বেড়ে যাওয়ায় এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সেই বিবেচনায় নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-এর মতো শব্দগুলোর সংজ্ঞা আরও নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট না হলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। তাদের মতে, অস্পষ্ট সংজ্ঞা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এদিকে সংশোধনী নিয়ে সরকারের ভেতরেও ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে। এক পক্ষ মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় কঠোর আইন সময়ের দাবি। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এ ধরনের বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।

ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরীর মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনী বর্তমান আইনকে আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধাঁচে ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। তার ভাষ্য, আইনটি বর্তমান আকারে পাস হলে অপপ্রয়োগের ঝুঁকি বাড়বে এবং অনলাইন স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সর্বশেষ