• ২০২৬ অগাস্ট ০২, রবিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সরকার-ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগেই বদলাবে অর্থনীতি, ৪-৫ বছরে ইতিবাচক ফলের আশা প্রধানমন্ত্রীর

  • প্রকাশিত ১২:০৮ পূর্বাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ০২, ২০২৬
সরকার-ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগেই বদলাবে অর্থনীতি, ৪-৫ বছরে ইতিবাচক ফলের আশা প্রধানমন্ত্রীর
Time Bangla news
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

সরকার-ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগেই বদলাবে অর্থনীতি, ৪-৫ বছরে ইতিবাচক ফলের আশা প্রধানমন্ত্রীর


সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সিদ্ধান্তই হবে অগ্রগতির মূল ভিত্তি।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অর্থনীতিতে নানা ধরনের সমস্যা থাকলেও সরকার সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন, ফলে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনায় উঠে আসা খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

আগের বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এবারের আলোচনায় যেসব নতুন বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তার ভাষায়, নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমেই বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয় এবং কার্যকর সমাধানের পথ বেরিয়ে আসে। এই সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্প স্থাপন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি, নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী বৈঠকে উত্থাপিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট বিষয়গুলোও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। রপ্তানি সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।

মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ