আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষমার আহ্বান মোদীর, মামলা না চালানোর ইঙ্গিত
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদী বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ ভুল পথে পরিচালিত হয়েছেন। তাদের কারাদণ্ড, আদালতে বারবার হাজিরা কিংবা সামাজিকভাবে অপমান করা বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সমাধান নয়। বরং তিনি তাদের ক্ষমা করতে চান এবং সমাজকেও একই মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানান।
গত জুলাইয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামেন। বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয় এবং রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে বহু শিক্ষার্থী ও তরুণের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে মোদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে এসব মামলার বিষয়ে নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। এরপর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দাবি করেছে, সরকারের আশ্বাসের পরও বিভিন্ন রাজ্যে এখনও অনেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার ও আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এ লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা ও শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংশোধনের জন্য পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং উচ্চ অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মতামত দিন