• ২০২৬ অগাস্ট ০২, রবিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

২৪ ঘণ্টায় সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, সীমান্তে চরম সংকটে স্পেন

  • প্রকাশিত ০১:০৮ পূর্বাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ০২, ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, সীমান্তে চরম সংকটে স্পেন
Time Bangla news
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

২৪ ঘণ্টায় সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢল, সীমান্তে চরম সংকটে স্পেন


মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এই নজিরবিহীন ঢলে সীমান্ত পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর পথে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরপরই সীমান্তে অভিবাসীদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেকে সাঁতরে কিংবা ভাসমান টিউব ও ইনফ্লেটেবল রিং ব্যবহার করে সেউতার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। আবার কেউ সীমান্তঘেরা প্রবেশপথ দিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছেন।

মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। তাই অঞ্চলটিতে অভিবাসীদের চাপ নতুন নয়, তবে এবারের পরিস্থিতিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের "আক্রমণ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের কথাও জানান তিনি।

ইউরোপের কয়েকটি দেশের নেতাও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স স্পেনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এদিকে কর্মকর্তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেউতার জনসংখ্যা প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০ হলেও মাত্র একদিনে প্রবেশের চেষ্টা করা মানুষের সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার সেউতা ও মেলিলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনা মোতায়েন করেছে। একই সময়ে মেলিলাতেও কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের অধিকাংশই তরুণ পুরুষ হলেও নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তাদের মধ্যে প্রায় সাত হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সীমান্তে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন তারা অভিবাসীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম সাহারা ইস্যুকে ঘিরে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সীমান্তে এই অস্বাভাবিক চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হতে পারে। এর আগে ২০২১ সালেও কয়েক হাজার অভিবাসী একইভাবে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন, তবে এবারের ঘটনা সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

সর্বশেষ