হুঙ্কার নাকি নীরব আর্তনাদ? সিএনজি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার, চালকদের দেওয়ালে পিঠ: সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ
তানিয়া আক্তার রানু
নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা জেলা প্রতিনিধি, টাইম বাংলা নিউজ
বিশেষ ক্ষোভ প্রকাশমূলক প্রতিবেদন:
সারাদিন প্রখর রোদ, ধুলাবালি আর শারীরিক ক্লান্তি সহ্য করে রোদে-পুড়ে বৃষ্টিতে-ভেজে স্টিয়ারিং ঘোরাতে হয় যে মানুষগুলোকে, তাদের রাতের ঘুমও আজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দেশের পরিবহন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি সিএনজি বাস, এমনকি প্রাইভেট কারের চালকরা আজ পাম্পের লাইনে এক চরম অমানবিক দাসত্বের শিকার। ৬ ঘণ্টা, ৭ ঘণ্টা—কখনও বা তারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটু সিএনজি গ্যাসের জন্য ভিক্ষুকের মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টানা এক মাস ধরে চলতে থাকা এই নরকযন্ত্রণা কি সরকারের চোখে পড়ছে না, নাকি দেখেও না দেখার ভান করে ঘুমিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার সীমান্তবর্তী এলাকার ‘ডব্লিউ.জেড. সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং স্টেশন লিঃ’-এর সামনে ধারন করা ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা যায়, রাতের অন্ধকার চিরে মাইলের পর মাইল দাঁড়িয়ে আছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কাজ শেষে যেখানে একটু সুষম আহার আর পরিবারের সান্নিধ্য পাওয়ার কথা, সেখানে তাদের পুরো রাত কাটছে পাম্পের বিষাক্ত ধোঁয়া আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।
"আমরা কি মানুষ নই?" — তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষরণ চালকদের হৃদয়ে
দিনের দুই-তৃতীয়াংশ সময় যদি পাম্পের লাইনেই পার হয়ে যায়, তবে একজন চালক উপার্জন করবেন কখন, আর পরিবারকেই বা কীভাবে বাঁচাবেন? ড্রাইভার ভাইদের একটাই সোজা প্রশ্ন—
"আমরা কি মানুষ নই? আমাদের কি পরিবার নেই? রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতে পরিজনের সাথে এক শান্তিতে দু’মুঠো ভাত খাওয়ার অধিকারটুকুও কি আজ কেড়ে নেওয়া হবে?"
একটি স্বাধীন ও সভ্য দেশে মেহনতি মানুষদের এভাবে জিম্মি করে রাখার অধিকার কারও নেই। গ্যাসের কৃত্রিম সংকট, পাম্পগুলোর চরম নৈরাজ্য আর তদারকিহীন প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা আজ চালকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।
সরকারের কান বধির, নাকি জেনেশুনেই এই নিরবতা?
দেশের এত বড় একটি চালক সমাজ যখন এক মাস ধরে রাস্তায় দিন-রাত পার করছেন, তখন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা কী করছেন? তারা কি জেনেশুনেই ঘুমিয়ে থাকার ভান করছেন? সাধারণ চালকদের এই রক্তপানি করা কষ্ট দেখেও যাদের বিবেক নাড়া দেয় না, সেই দায়িত্বশীলদের অবিলম্বে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
অতি দ্রুত কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপের দাবি
এই সহ্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়া ভোগান্তি আর একদিনও মানা সম্ভব নয়। নারায়ণগঞ্জের ডব্লিউ.জেড. সিএনজি ফিলিং স্টেশন সহ সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর এই কৃত্রিম সংকট ও তদারকিহীন সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—অবিলম্বে, অতি দ্রুত এই সিএনজি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। লাখো চালকের বুকের হাহাকার আর তীব্র ক্ষোভ রাস্তায় নামার আগেই এই অমানবিক ভোগান্তির চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে হবে!
মতামত দিন