সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৯ জনের
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে বেরিয়ে আসবে গাফিলতির তথ্য
বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ সাখাওয়াত হোসেন | টাইম বাংলা নিউজ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে কাজ করার সময় ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে শিপইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল। এ সময় জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে থাকা শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
একের পর এক বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যা
দুর্ঘটনার পর প্রথমদিকে নিহতের সংখ্যা কম থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের মৃত্যু হয়। রাতে সর্বশেষ আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ৯ জনে পৌঁছেছে বলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের শিপব্রেকিং শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জাহাজের বন্ধ ট্যাংক বা আবদ্ধ স্থানে কাজের আগে বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা টিম এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো কতটা নিশ্চিত করা হয়েছিল—তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
শুধু দুর্ঘটনা নয়, দায় নির্ধারণও জরুরি
বিশ্লেষকদের মতে, শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের কারণে এখানে ছোট একটি নিরাপত্তা ঘাটতিও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং দুর্ঘটনার মূল কারণ, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
নয়টি প্রাণের এই মর্মান্তিক মৃত্যু তাই কেবল একটি শিপইয়ার্ডের দুর্ঘটনা নয়; এটি দেশের শিল্পকারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তারও একটি বড় সতর্কবার্তা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৯ জন। আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসা চলছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
মতামত দিন