• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

**চট্টগ্রাম থেকে কুনমিং: মিয়ানমার হয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব বাংলাদেশের ।*

  • প্রকাশিত ০৮:০৯ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
**চট্টগ্রাম থেকে কুনমিং: মিয়ানমার হয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের  প্রস্তাব  বাংলাদেশের ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

**চট্টগ্রাম থেকে কুনমিং: মিয়ানমার হয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের  প্রস্তাব  বাংলাদেশের ।* 

 *উপশিরোনাম:* মিয়ানমার হয়ে ১,২০০ কিলোমিটার রুটে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব; সময়-ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে। 

চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইউনানে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী কেন্দ্র চালু এবং দুই দেশের মধ্যে কার্গো বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ইউনান বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ, কৃষি, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-মিয়ানমার-কুনমিং রুটে কার্যকর সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের এ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর হলে পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি আসতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হতে পারে।

বৈঠকে ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী সেখানে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সুবিধার্থে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা দ্রুত চালুর আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে। প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ মানুষের এ প্রদেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

চীনের ইউনান প্রদেশের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বিপরীতে ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ গড়ে উঠলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্য আরও সহজ হতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ইউনানের সঙ্গে পাট নিয়ে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রযুক্তি ও কৃষি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পাটের গুণগত মান এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জ্বালানি, ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে সিলেটে আধুনিক একটি পার্ক নির্মাণের বিষয়েও সহযোগিতা চাওয়া হয়। সিলেটের পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কের আদলে এটি গড়ে তুলতে ইউনানের সহযোগিতা চান তিনি।

বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ঝাও জুনমিন বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউনানের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ