• ২০২৬ অগাস্ট ১৫, শনিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ৩১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

১৫ই আগস্ট: রক্তভেজা এক ট্র্যাজিক ভোরে নিভে যাওয়া প্রদীপ

  • প্রকাশিত ০৮:০৮ অপরাহ্ন শনিবার, অগাস্ট ১৫, ২০২৬
১৫ই আগস্ট: রক্তভেজা এক ট্র্যাজিক ভোরে নিভে যাওয়া প্রদীপ
Time Bangla news
তানিয়া আক্তার রানু (নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঢাকা):

১৫ই আগস্ট: রক্তভেজা এক ট্র্যাজিক ভোরে নিভে যাওয়া প্রদীপ

​আজ ১৫ই আগস্ট। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে করুণ, শোকার্ত এবং হৃদয়বিদারক এক অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের এই অভিশপ্ত রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে নেমে এসেছিল অমানুষিক  মানবতা এবং নির্মমতার কালো ছায়া। শেষ রাতে যখন পুরো শহর ঘুমিয়েছিল, ঠিক তখনই বুলেটের নিদারুণ শব্দে কেঁপে উঠেছিল ইতিহাসের বুক।

​ধানমন্ডির সেই বাড়িটি—যেখানে প্রতিদিন কোটি মানুষের স্বপ্নের বুনন হতো, স্বাধীনতার পথনির্দেশ পাওয়া যেত—তা মুহূর্তেই পরিণত হয় রক্তস্নাত এক মৃত্যুপুরীতে। ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাত থেকে রক্ষা পাননি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং মাত্র দশ বছরের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলও। বুলেট বিদ্ধ করেছিল পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের জীবন।

​যে হাত দুটি বাঙালিকে মুক্ত আকাশের নিচে বুক ফুলিয়ে বাঁচার সাহস জুগিয়েছিল, সেই হাত দুটি সেদিন নিথর হয়ে পড়ে থাকে রক্তের প্লাবনে। একটি সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্ত যেন হাজার বছরের শৃঙ্খলমুক্ত এক জাতির হৃদপিন্ড ফুটো করে দিয়েছিল। রাসেল যখন ঘাতকদের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেছিল, "আমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে যাও", সেই নিষ্পাপ কণ্ঠও ঘাতকদের পাষাণ হৃদয় গলাতে পারেনি।

​১৫ই আগস্ট কেবল কয়েকজন ব্যক্তির শারীরিক প্রস্থান ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির ওপর নেমে আসা এক অপূরণীয় আঘাত। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও শ্রাবণের এই দিনে বাতাসে আজও ভাসে স্বজন হারানোর অস্ফুট কান্না, বাতাসের দোলায় শোনা যায় ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটির দীর্ঘশ্বাস।

​আজকের এই শোকাবহ দিনে ইতিহাস নীরব শ্রদ্ধায় নত হয়। কালকের ভোরের আলো হয়তো আবার ফুটবে, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় লাল কালিতে লেখা ১৫ই আগস্টের এই শূন্যতা আর কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। আমরা আজও কাঁদি, এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আনুগত্য, বিশ্বাসঘাতকতা এবং এক চিরন্তন বেদনার মহাকাব্য।

সর্বশেষ