• ২০২৬ অগাস্ট ২৫, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

রংপুরে চার হত্যা: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

  • প্রকাশিত ১২:০৮ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, অগাস্ট ২৫, ২০২৬
রংপুরে চার হত্যা: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন
File
রেজাউল ইসলাম আশিক

এবার রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীতার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবিএকই ধরনের শার্ট আলাদা ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে। রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। পরে জানা যায়তিনি পুলিশ কর্মকর্তা। 

এর আগেরোববার (২৩ আগস্টবিকেল ৫টার দিকে হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোরফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্তমিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেনগ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আসামির পরনে থাকা শার্ট এবং মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেনমরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের একটি শার্ট দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেনএকই শার্ট আলাদা আলাদা মানুষ পরতেই পারেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবিহত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন। পুলিশ জানায়আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে আটক দুজনের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

শনিবার (২২ আগস্টসংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেনপ্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের দাবিবৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশের সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার জানানরাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেনজবাবে পুলিশ কমিশনার বলেনএত অল্প সময়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছেআমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলবআমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।


সর্বশেষ