• ২০২৬ অগাস্ট ২৬, বুধবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

অবৈধভাবে সার মজুতকারীকে হাদিসের আলোকে 'ক্ষমা' করলেন কৃষি কর্মকর্তা।

  • প্রকাশিত ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন বুধবার, অগাস্ট ২৬, ২০২৬
অবৈধভাবে সার মজুতকারীকে হাদিসের আলোকে 'ক্ষমা' করলেন কৃষি কর্মকর্তা।
File
হাসিনুর রহমান হাসু। জেলা প্রতিনিধি, টাংগাইল।

অবৈধভাবে সার মজুতকারীকে হাদিসের আলোকে 'ক্ষমা' করলেন কৃষি কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের বারিন্দা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে। অভিযানের খবর আগেই পেয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় সার জব্দ করা হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)। তবে অভিযানের পর অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাকে ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন। তাঁর এমন বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিছুই জানেন না বলে দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারিন্দা বাজারের ব্যবসায়ী কোহিনূর মিয়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে তাঁর গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত করেছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক আজিজ। তাঁর সঙ্গে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের খবর আগেভাগেই টের পেয়ে ব্যবসায়ী কোহিনূর মিয়া তাঁর গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে সেখান থেকে সরে যান। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই উপজেলা কৃষি অফিসের দুই কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী ওই গোডাউনে শতাধিক বস্তা সার মজুত দেখতে পেয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গোডাউনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তবে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ বা মজুত করা সার জব্দ না করেই তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁদের প্রশ্ন, অভিযানের আগে যেখানে গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার থাকার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে অভিযানের সময় গোডাউন তালাবদ্ধ পাওয়ার পরও কেন তা জব্দ করা হলো না কিংবা আইনগতভাবে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না?

অভিযান শেষ না করেই ফিরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে দেখা দেয় নতুন প্রশ্ন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের বক্তব্যে ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। লাইসেন্সধারী ডিলার না হওয়া সত্ত্বেও ওই ব্যবসায়ীকে কীভাবে ছাড় দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে গোডাউনের তালা না ভেঙে ফিরে আসার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘হাদিসের আলোকে ক্ষমা মহৎ গুণ’—এই বিবেচনায় ব্যবসায়ীকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেই ওই ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তবে কৃষি কর্মকর্তার এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের কাছে ভিডিও বক্তব্য চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

একদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর গোডাউন তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তা জব্দ না করা এবং পরবর্তীতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে মির্জাপুরজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় অবৈধ মজুতদারদের মধ্যে অনিয়মের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কোহিনূর মিয়া পলাতক থাকাতে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সর্বশেষ