চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় সামরিক ক্রয়ের প্রস্তুতি, শুরু হতে পারে আনুষ্ঠানিক আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন | টাইম বাংলা নিউজ
ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০২৬:
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চীনের তৈরি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরিতে একটি সরকারি প্যানেল কাজ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ চীন থেকে সর্বোচ্চ ২৪টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং সরবরাহের সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এসব বিষয় আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ
J-10CE আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ যদি এই ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়, তাহলে দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় সামরিক ক্রয় শুধু প্রতিরক্ষা খাতেই নয়, বাংলাদেশের আঞ্চলিক কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত, চীন এবং অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
সামনে কী?
সরকারি পর্যায়ে আলোচনা এগিয়ে গেলে যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ও চুক্তির অংশ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
টাইম বাংলা নিউজের বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য—সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
মতামত দিন