• ২০২৬ অগাস্ট ২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবু ৫৫ বছর ধরে অন্ধকারে শত শত পরিবার

  • প্রকাশিত ১২:০৮ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, অগাস্ট ২৭, ২০২৬
কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবু ৫৫ বছর ধরে অন্ধকারে শত শত পরিবার
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবু ৫৫ বছর ধরে অন্ধকারে শত শত পরিবার


রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে বিদ্যুৎ। অথচ সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের পাহাড়ি এলাকার শত শত পরিবার এখনও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ঘরে পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো।


দুর্গম পাহাড়ি অবস্থান ও ভৌগোলিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে উপজেলা সদর থেকে তুলনামূলক কাছাকাছি হয়েও গোলাবারুদছড়া, ভাইজ্যতলী, হরিণছড়াসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ওয়ার্ডে প্রায় ৫৬০টি পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পরপরই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো এলাকা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

রাতের অন্ধকার কাটাতে অনেক পরিবার এখনও কুপি, মোমবাতি কিংবা অন্যান্য বিকল্প আলোর ওপর নির্ভরশীল। সামর্থ্যবান কিছু পরিবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সোলার প্যানেল ব্যবহার করলেও অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইন স্থাপন করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত মানুষের ঘরে আলো পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে শুধু ঘর আলোকিত হওয়াই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মোবাইল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পানির পাম্প পরিচালনাও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ভানুমতি চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। প্রায় ৫৬০টি পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় বসবাস করছে।

৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সঞ্চালন লাইন নেওয়া সম্ভব না হলে সরকারি অর্থায়নে পরিবারভিত্তিক সোলার সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার জানান, ২০২২ সালের পর রাঙামাটিতে নতুন কোনো সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়নি। নতুন একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে নতুন করে সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তখন আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন সাপেক্ষে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের কাছাকাছি থেকেও দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন জীবনযাপন করছেন কাপ্তাইয়ের এসব পাহাড়ি এলাকার মানুষ। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তাদের ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছাবে—এটাই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ