• ২০২৬ অগাস্ট ৩০, রবিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বাংলাদেশে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি’, বলেছেন সজীব ওয়াজেদ জয় , চিন্তায় ভারতীয় গোয়েন্দারাও Most Wanted Terrorist সরকারি খাতায় পলাতক, এ দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের পথে-ঘাটে

  • প্রকাশিত ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি’, বলেছেন সজীব ওয়াজেদ জয় , চিন্তায় ভারতীয় গোয়েন্দারাও Most Wanted Terrorist সরকারি খাতায় পলাতক, এ দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের পথে-ঘাটে
জঙ্গী ইক্রামুল হকের -সংগৃহীত ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি

বিগ ও গুরুত্বপূর্ণ  সংবাদঃ বাংলাদেশের পথেঘাটে দিব্যি অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি’। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় । তাঁর অভিযোগ, আল কায়দার (Al Qaeda Leader) সেকেন্ড-ইন কমান্ড মৌলানা ইক্রামুল হক ওরফে আবু তালহা। জয়ের  এই অভিযোগে চাঞ্চল্য ভারতেও। কারণ, ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি’-র তালিকায় রয়েছে এই আল কায়দার নেতা। এ ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপে নজরদারি কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করেই আল কায়েদা তার শাখা সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করছে।

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা AQIS-এর শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত মৌলানা ইক্রামুল হক ওরফে আবু তালহা। সরকারি নথি অনুসারে, জামিনে মুক্তির পরে প্রায় ২২ মাস ধরে তার খোঁজ মিলছে না। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সে দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে দাবি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের। এত দিন ধরে ওই ব্যক্তির হদিশ না মেলায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল কায়েদা ফের নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে। এর আগে বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে সক্রিয়। এমনকী, আল কায়েদা-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিনা বাধায় বক্তব্য রাখছেন। যা ভারতের জন্যে যথেষ্ট চিন্তার।

কেন চিন্তায় ভারতীয় গোয়েন্দারা?

ইক্রামুল হককে ঘিরে ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ তাঁর অতীত কার্যকলাপ। ভারতীয় গোয়েন্দাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে তিনি AQIS-এর হয়ে সংগঠন বিস্তারের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। পাঁচটি ভিন্ন নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়ো ভারতীয় নথি ও পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের একাধিক এলাকায় জঙ্গি মডিউল তৈরির সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি।

ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-এর খাতাতেও ‘মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি’-র তালিকায় নাম রয়েছে ইক্রামুলের। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। NIA-র তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ময়মনসিংহের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি ইক্রামুল বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশে এসেছিল। সেখানেই আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয় সে। পরে উপমহাদেশে আল কায়েদা ইন সাবকন্টিনেন্ট-এর শীর্ষ স্তরের নেতার পদ পান। NIA আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারতে থাকাকালীন দুই বছর পশ্চিমবঙ্গে কাটিয়েছে সে। মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে গুজরাট পর্যন্ত একাধিক স্লিপার সেল এবং মডিউল তৈরি হয়েছে তারই তত্ত্বাবধানে।

২০২৩ সালে গ্রেপ্তার, ২০২৪-এ জামিন

ইক্রামুল হককে ২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকার মাদারটেক এলাকা থেকে তাঁর স্ত্রী ফারিয়া আফরিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে কাশিমপুর জেলে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালে অগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন হাসিনা। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এর পর থেকেই তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সজীব ওয়াজেদ জয়ের।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইক্রামুলের বাবা দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে সম্ভবত নারায়ণগঞ্জের কোনও একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। স্থানীয় পুলিশের কাছেও এমন খবর পৌঁছেছে বলে জানা গেলেও, এখনও তাঁর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

তবে ইক্রামুল হক বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—সজীব ওয়াজেদ জয়ের , এই দাবির সমর্থনে তেমন পোক্ত প্রমাণ মেলেনি। ইক্রামুল বর্তমান অবস্থান এবং জামিনের পরে তিনি কী ভাবে বেপাত্তা হলেন, তা নিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এখনও কোনও তথ্য মেলেনি। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, হাসিনা সরকারের পতনের পরে ইক্রামুল ছাড়াও সরাসরি জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ৩৭০ জন জামিন পেয়েছিল। সেই জঙ্গিরাও ভারতীয় গোয়েন্দাদের জন্য চিন্তার বিষয়। বর্তমান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টে বলা হয়েছে জঙ্গীবাদ বংলাদেশে বিস্তার লাভ করেছে। 

সর্বশেষ