গফরগাঁওয়ে অস্ত্রের মুখে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুর
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আসামিদের বাড়ির টিনের বেড়া ও চাল ভেঙে খুলে পাশে স্তূপ করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে রাজিব (২৩) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এ হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে চর কালিবাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, শরীফ মিয়া ও আরিফ মিয়াসহ পাঁচ যুবক প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। পানি দেওয়ার জন্য দরজা খুললে তাঁরা ওই নারীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর রাতেই রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।
মামলায় চর কালিবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩) ও আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩) এবং নূরুর ছেলে এনামুলকে (২২) আসামি করা হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিই চর কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামিদের শাস্তির দাবিতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রোববার ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা দুই দফা আলোচনা করেন। এর পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্র হয়ে মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুরে আসামিদের টিনের বসতঘরের বেড়া ও চাল ভেঙে ফেলা হয়। পরে খুলে নেওয়া টিন বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। তবে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভাঙচুর চললেও ওই সময়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল না।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা খবর পেয়েছি। চর কালিবাড়ি এলাকায় আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’
মতামত দিন