টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন সেতু এলাকায় অভিযান চালান দুদকের কর্মকর্তারা,,
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১০ |
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সেতুটির ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার অভিযোগের ভিত্তিতে এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত, দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ এবং এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক বিপ্লব হোসেন জানান, দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছেন তারা। রডের পরিমাণ কম রয়েছে। যতটুকু রড দরকার, ততটুকু নেই।
তাঁর ভাষ্য, সরেজমিন একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তারা। তাদের বিশেষজ্ঞরা সরেজমিন আরও পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেখানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশনকে বিস্তারিত জানানো হবে। এরপর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরে কার্যক্রম চালানো হবে। তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো আমরা সরেজমিন দেখতে পাইনি। তবে গণমাধ্যমের খবরে দেখেছি। সেখানে সাটারিংয়ে বাঁশের ব্যবহার দেখেছি।’
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিপ্লব হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক বাসেদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এলজিইডির তথ্যমতে, প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাসাইল কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের মাইজখাড়া সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়। এই সেতুর নির্মাণকাজ পায় ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’ নামে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি ঢালাইকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঢালাইয়ের ভেতর রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ বিষয় নিয়ে সমকালসহ বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মতামত দিন