• ২০২৬ অক্টোবর ১৯, সোমবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*সৌদি সংকটে নিস্তব্ধ শাহজালাল, উধাও চেনা কোলাহল।

  • প্রকাশিত ০৭:১০ অপরাহ্ন সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
*সৌদি সংকটে নিস্তব্ধ শাহজালাল, উধাও চেনা কোলাহল।
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*সৌদি সংকটে নিস্তব্ধ শাহজালাল, উধাও চেনা কোলাহল।* 

 *উপশিরোনাম:* ১১৪ ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা--কমেছে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়;অচেনা রূপ শাহজালাল বিমানবন্দরের। থমকে গেছে বিমানবন্দরের চেনা ব্যস্ততা। 

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাধারণত যাত্রীদের কোলাহল, স্বজনদের অপেক্ষা আর গাড়ির দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বদলে গেছে বিমানবন্দরের সেই পরিচিত চিত্র। আগমন ও বহির্গমন—দুই টার্মিনালেই কমেছে যাত্রীদের উপস্থিতি। ফাঁকা পড়ে থাকছে সামনের গাড়ি পার্কিং এলাকা, কমেছে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যস্ততাও।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম লোকজন দেখা যায়। যাত্রীদের স্বাগত জানাতে আসা স্বজনদের ভিড় নেই, নেই গাড়ি নিয়ে অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি। কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রী একসঙ্গে বের হওয়ার সময় যে ব্যস্ততা তৈরি হয়, তারও তেমন উপস্থিতি ছিল না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ দুই বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার বিমানবন্দরেও। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের নিতে আসা স্বজন ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগমন টার্মিনাল এবং পার্কিং এলাকায় ভিড় অনেকটাই কমেছে।

আগে একজন প্রবাসী দেশে ফিরলে তাঁকে স্বাগত জানাতে পরিবারের একাধিক সদস্য বিমানবন্দরে আসতেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন যাত্রীকে নিতে সাত থেকে আটজন পর্যন্ত স্বজনের উপস্থিতি দেখা যেত। এতে টার্মিনালের বাইরে মানুষের ভিড়ের পাশাপাশি গাড়ি রাখার জায়গা নিয়েও তৈরি হতো সংকট। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

 *‘এমন ফাঁকা বিমানবন্দর আগে দেখিনি’* 

দুবাই থেকে আসা ভাইকে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন হাবিবুর রহমান। আগেও একাধিকবার বিমানবন্দরে আসার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তবে এবারকার পরিস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগে বিমানবন্দরে মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার এসে সেই পরিচিত দৃশ্যের দেখা পাননি।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্ব পালনরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিমানবন্দর অনেকটাই ফাঁকা। আগে যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের সামলাতে যে চাপ ছিল, এখন তা নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও যাত্রীদের ভিড় বাড়তে পারে।

 *বহির্গমনেও কমেছে যাত্রীর চাপ* 

শুধু আগমন টার্মিনাল নয়, বহির্গমন এলাকাতেও যাত্রীদের উপস্থিতি কম। সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ওই রুটের যাত্রীরা বিমানবন্দরে আসছেন না। কিছু ওমরাহযাত্রী দেখা গেলেও স্বাভাবিক সময়ের মতো যাত্রীদের ঢল নেই।

কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে বিমানবন্দরে এসে তিনি যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখেছিলেন। এবার যাত্রার সময় টার্মিনালের ভেতরে ও বাইরে তুলনামূলক ফাঁকা পরিবেশ দেখে অবাক হয়েছেন। আরেক যাত্রী তরিকুল ইসলামের ধারণা, সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে যাত্রীদের চাপ কম থাকতে পারে।

 *চাপ কমেছে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদেরও* 

যাত্রীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের কাজের চাপও কমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যাত্রীদের চাপ এত বেশি থাকে যে খাবার খাওয়া, ওয়াশরুমে যাওয়া কিংবা নামাজ আদায়ের জন্য সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রী কমে যাওয়ায় কাজের পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে।

অন্যদিকে বিমানবন্দরের বাইরের দোকানপাটেও বেচাকেনা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় এসব দোকানের নিয়মিত ক্রেতার সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।

 *বাতিল ১১৪ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে হাজারো প্রবাসী* 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আট দিনে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী যাত্রী আটকা পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সৌদি আরব থেকেও বহু প্রবাসী নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না।

ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় একদিকে প্রবাসীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কমেছে চিরচেনা ব্যস্ততা। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করছে সৌদি আরবের বিমান চলাচল পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।

সর্বশেষ