১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন জনতার নেতা জনতার কাছে ফিরে এসেছিলেন। মহান মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাকে পেয়ে বাঙালির স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল। জনতার নেতা গণমঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। চোখের অশ্রু সংবরণে ছিলেন অক্ষম। নেতা আর জনতার আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঙালির স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। তাই তো এই ঐতিহাসিক দিনে রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, 'আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।' সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন ছিল যেনো অসম্ভবকে সম্ভব করা। ফলে তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতার পঙক্তি ' সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি' উচ্চারণ করে প্রত্যয়দীপ্ত বুকে বলেন যে, কবি গুরুর কথা আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমার বাংলার মানুষ আজ মানুষ হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলার প্রতি মমত্ববোধ ও বাঙালির প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল।
দিনটি বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের বিজয়ের পূর্ণতা লাভের দিন হিসেবে ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, 'এ স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়, যদি বাংলার মা–বোনেরা কাপড় না পায়, যদি এ দেশের যুবকরা কাজ না পায়।' বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ।
মতামত দিন