“উৎসব নয়, আন্দোলনের অঙ্গীকারে এনামুল হক শাহীনের জন্মদিন”
শাজাহানপুরের রাজনীতিতে যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ত্যাগ, সাহস আর সংগঠনের দৃঢ়তা—তিনি এনামুল হক শাহীন। বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এই আপসহীন নেতার আজ ৫২তম জন্মদিন।
১৯৭৪ সালের ১১ জানুয়ারি শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর গ্রামে জন্ম নেওয়া এনামুল হক শাহীন ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন ব্যতিক্রমী মেধাবী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অর্জন করেন। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে চোপীনগর হাইস্কুল থেকে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি এবং ১৯৯০ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগ থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে রসায়নে এমফিল (কোর্সওয়ার্ক) সম্পন্ন করেন এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (AIUB) থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
খেলোয়াড় হিসেবেও ছিল তার সুপরিচিত সুনাম। ইন্টার স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতার এই যুগলবন্দিই তাকে গড়ে তুলেছে একজন ব্যতিক্রমী নেতা। তবে জন্মদিন এলেও এবছর নেই কোনো উৎসবের আমেজ। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে গভীর শোকাহত তিনি। এনামুল হক শাহীন বলেন,
“এই শোকের সময়ে জন্মদিন বা কোনো আনন্দ আমাদের স্পর্শ করে না। আমাদের ভাবনা এখন শুধু আন্দোলন আর দেশনেত্রীর আদর্শ।”
রাজনীতির ময়দানে তিনি শুধু একজন নেতা নন—তিনি শাজাহানপুর বিএনপির সাহসের প্রতীক। শতাধিক মিথ্যা মামলা, পুলিশি হয়রানি, আত্মগোপন কিংবা আদালতের বারান্দায় হাজিরা—কোনো কিছুই তাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি।
দলের দুঃসময়ে যখন নেতাকর্মীরা দিশেহারা, তখন ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা, আন্দোলনের সময় সংগঠনের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর—সবকিছুতেই তার সক্রিয় উপস্থিতি শাজাহানপুর বিএনপিকে আগলে রেখেছে।
তারেক রহমানের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে এনামুল হক শাহীন জিয়া পরিবারের আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তার দিকনির্দেশনায় শাজাহানপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে হয়েছে মিছিল, সভা, লিফলেট বিতরণ ও আন্দোলন কর্মসূচি।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণেও রয়েছে তার দৃশ্যমান অবদান। শাজাহানপুরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু অনুমোদনসহ বহু রাস্তা, কালভার্ট, স্কুল ও মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণে তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা—যা তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আলাদা আসনে বসিয়েছে।
সংগঠন, ত্যাগ ও আদর্শের প্রতিচ্ছবি এনামুল হক শাহীন আজ বগুড়ার রাজনীতিতে বিএনপির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি। শাজাহানপুর বিএনপির নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন—এই নেতা তাদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন পূরণে নেতৃত্ব দেবেন।
শুভ জন্মদিন এনামুল হক শাহীন।
সৎনিষ্ঠা, নীতি, আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রামের এই পথেই এগিয়ে যাক আপনার নেতৃত্ব।
মতামত দিন