নির্বাচনের আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসলে আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছেন জামায়াতের দলীয় প্রার্থী আব্দুল মান্নান।
আজ তার দলীয় প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা' বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু জোটগত জটিলতার কারণে যদি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বা চাপে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়, তবুও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধান অনুযায়ী এই মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানোর আর কোনো আইনগত সুযোগ নেই। ফলে ব্যালট পেপারে তার প্রতীক বহাল থাকবে এবং ভোটাররা তাকে ভোট দিতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এখন অকার্যকর কেন?
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সেই সময় পার হওয়ার পর প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেলে কোনো প্রার্থী চাইলেও আর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করতে পারেন না।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও আইনি বিশ্লেষণ :
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো প্রার্থী যদি সংবাদ সম্মেলন করে বা ব্যক্তিগতভাবে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়ান, তবুও তাকে একজন 'প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী' হিসেবেই গণ্য করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়ায় এখন আব্দুল মান্নানের নাম বা প্রতীক ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার কমিশনের নেই।
ব্যালটে থাকবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক:
নির্বাচনের দিন নির্ধারিত কেন্দ্রে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে, সেখানে আব্দুল মান্নানের নাম এবং তার অনুকূলে বরাদ্দ হওয়া ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক যথারীতি বিদ্যমান থাকবে। ভোটাররা চাইলে ওই প্রতীকে সিল দিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ওই ভোটগুলো বাতিল হবে না, বরং বৈধ ভোট হিসেবেই গণনা করা হবে।
বিশ্লেষণ: সরে দাঁড়ালেও যদি জয়ী হন?
রাজনৈতিকভাবে আব্দুল মান্নান প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রাখতে পারেন বা নিজেকে নির্বাচন থেকে বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করতে পারেন, কিন্তু আইনিভাবে তিনি ময়দানে থাকছেনই। যদি ভোটাররা তাকে ভোট দেন এবং তিনি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বেশি ভোট পান, তবে নির্বাচন কমিশন তাকেই বিজয়ী হিসেবে গেজেট প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের নির্দেশে তিনি 'নিষ্ক্রিয়' থাকেন তবুও আইনিভাবে তার বিজয়ী হওয়ার পথ বন্ধ হবেনা।
মতামত দিন