সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিগত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সিলেটে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি।
সিলেটের জনসংখ্যা বাড়লেও ওসমানী হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে, ওসমানী হাসপাতালে আসা রোগীরা যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হাসপাতালগুলো আধুনিক ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চালান খন্দকার মুক্তাদির। তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেন।
সকালে সিলেট নগরীর জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। পরে শেখঘাট, নবাব রোড, এবি পয়েন্ট, কলাপাড়া, লামাপাড়া, ঘাসিটুলা, মজুমদারপাড়া, শামীমাবাদ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এলাকা, নরসিংটিলা ও বর্ণমালা পয়েন্টসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেন।
গণসংযোগকালে তিনি পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান ও বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং আগামী নির্বাচনে সমর্থনের আশ্বাস দেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।
গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সহ-সভাপতি সুদিপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবদলের সভাপতি নেওয়াজ বক্ত চৌধুরী তারেক, সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট হোসেন,মহানগর যুবদল সহ: সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমান রুবেল,মহানগর কৃষক দলের আহবায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মুর্শেদ, মহানগর বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকি, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা সম্রাট হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে বিকেলে নগরীর মজুমদারীতে মজুমদার বাড়িতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আয়োজনে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার সমপরিমাণ খাদ্য সামগ্রী পাবে এবং এ সুবিধা কেবল নারীদের নামে প্রদান করা হবে।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিএনপি নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিল এবং বেগম খালেদা জিয়া নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভবিষ্যতে স্কুল পর্যায়ে মধ্যাহ্নভোজ চালুর উদ্যোগ এবং কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সময় সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও পরবর্তীতে উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে গেছে। বিএনপি সরকারে গেলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীরা ঘরে বসেই আয় করতে পারে—এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সিলেট থেকে ‘তীর জুয়া’ খেলা চিরতরে বন্ধ করা হবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ে অপকর্ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় খন্দকার মুক্তাদির অভিযোগ করেন, কিছু দলের লোকজন জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা ভাঁওতাবাজি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি হাফসা বেগমের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদারের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুবের আহমদ প্রমূখ।
মতামত দিন