• ২০২৬ জানুয়ারী ২৮, বুধবার, ১৪৩২ মাঘ ১৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

স্টেম সেল নিউট্রিশন পদ্ধতির চিকিৎসা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেছে।

  • প্রকাশিত ০৮:০১ অপরাহ্ন বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
স্টেম সেল নিউট্রিশন পদ্ধতির চিকিৎসা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেছে।
স্টেমসেল নিউট্রিশন ট্রিটমেন্ট
সাইদুজ্জামান সেলিমঃ জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা

কোষ যাকে ইংরেজীতে বলে ‘সেল’ (Introduction of Cells )। আমাদের চারপাশে দৃশ্য-অদৃশ্য যত জীবিত পদার্থ (উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ) রয়েছে, এর সবটাই নির্মিত হয়েছে কোষ দিয়ে। পৃথিবীর সকল জীবজগৎ ‘এককোষী ও বহুকোষী’ এই দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি কোষ একটি একক জীবন। অর্থাৎ প্রতিটি কোষ জীবন ধারণের জন্য খাদ্য, পরিপাক, হজম, রেচন এবং বংশ রক্ষা করে। প্রতিটি কোষ নির্দিষ্ট জীবন শেষে মৃত্যু বরণ করে।


বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, পিতার শুক্রানু ও মাতার ডিম্বানু নিষিক্ত হয়ে যে একটি কোষের সৃষ্টি করে তা একটি এমব্রায়োনিক স্টেম সেল (Embryonic Stem Cell) আর সেখান থেকেই মানব জীবনের শুরু। মানব জীবনের শুরুতে যে একটি এমব্রায়োনিক স্টেম সেল তৈরী হয়তার মধ্যে পিতার (২৩টি) ও মাতার (২৩টি) সূত্রে প্রাপ্ত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। আর এই ৪৬টি ক্রোমোজোমে ৩ বিলিয়ন ডি.এন.এ কোড থাকে, তা বংশ পরম্পরায় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহন করে ও মানবদেহের পূর্ণাঙ্গ অবয়বের তথ্য ধারণ করে যাকে বলা হয় জেনম কোড। কোষ বিভাজনের সময় কোষের এই পুরো তথ্য ভান্ডার এর কপি সৃষ্ট কোষটিতে হুবহু স্থানান্তরিত হয়। কোষের এই বিভাজন প্রক্রিয়া মৃত্যু পর্যন্ত চলে।


বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই একটি মাত্র এমব্রায়োনিক স্টেম সেল / কোষটি ক্রমাগত বিভাজনের মাধ্যমে ২২০টি স্টেম সের তৈরী করে মানব ভ্রুণের সৃষ্টি করে। এই স্টেম সেল সমূহ ক্রমাগত বিভাজনের মাধ্যমে মাতৃগর্ভে একটি পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুর সৃষ্টি করে। এই ২২০টি স্টেম সেল এডাল্ট স্টেম সেল-এ পরিণত হয়। এরা মৃত কোষের স্থান পূরণ করে, ক্ষতিগ্রস্থ কোষকে প্রতিস্থাপনের জন্যে নতুন কোষ তৈরীতে সাড়া জাগায়। এডাল্ট স্টেম সেল-এ অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত বিভাজন বা নিজস্ব নবায়ন ক্ষমতা রয়েছে। এই এডাল্ট স্টেম সেল বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানবদেহে ৩০০ ধরণের প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন কার্য সম্পাদনকারী কোষ তৈরী করে।


বিজ্ঞানীরা আরোও নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই কোষগুলোর জীবন ধারণের জন্য ৬টি পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। এই উপাদান সমূহ হলো-


১. অ্যামিনো এসিড,


২. ফ্যাটি এসিড,


৩. গ্লুকোজ,


৪. ভিটামিন,


৫. মিনারেলস্ ও


৬. পানি


আমরা যেসব খাদ্য গ্রহণ করি তা আমাদের পরিপাক তন্ত্রে উপরের ৬টি পুষ্টি উপাদানে বিভাজিত হয় এবং ক্ষুদ্রান্ত ও অন্যান্য অঙ্গাণুর মাধ্যমে শোষিত হয়ে রক্ত স্রোতে মিশে যায়।


প্রত্যেকটি কোষ একটি ব্যস্ত কারখানা। বিভিন্ন ধরণের বিলিয়ন বিলিয়ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করে চলছে এবং জৈব রাসায়নিক পদার্থ দেহ ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আলাদা আলাদা কাজ করে যাচ্ছে। মানবদেঘ কোষগুলি রাত-দিন ২৪ ঘন্টা অনবরত কাজ করে যাচ্ছে।


এই ৬টি উপাদানের সমন্বয়ে মানব দেহ প্রতি মূহুর্তে ৫০০ কোয়াড্রালিয়ন অর্থাৎ ৫০০x১০২৪ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া (বায়োকেমিক্যাল একটিভিটি) ঘটে এবং এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে কোস সমূহ মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৫ ধরণের হরমোন, ৭৫ হাজার ধরনের এনজাইম, ১ লক্ষ ৪৫ হাজার প্রকারের অ্যামাইনো এসিড, ও ৩০ বিলিয়ন এন্টিঅক্সিডেন্ট তৈরী করে। উপরে বর্ণিত ৬টি উপাদানের এক বা একাধিক পুষ্টির যোগান না হলে এই ৫০০ কোয়াড্রালিয়ন অর্থাৎ ৫০০x১০২৪ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সঠিক ভাবে সম্পন্ন হতে পারে না। জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সমূহ সঠিক ভাবে সম্পন্ন না হতে পারলে দেহের জন্য অপ্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া (Unwanted Biochemical Reactions) ঘটায়। এই অপ্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া (Unwanted Biochemical Reactions) আমাদের দেহে রোগের কারণ।


এই ৬টি (১. অ্যামিনো এসিড, ২. ফ্যাটি এসিড, ৩. গ্লুকোজ, ৪. ভিটামিন, ৫. মিনারেলস্ ও ৬. পানি) উপাদানের যেকোন একটির ঘাটতি হলে ঐ ঘাটতি সংশ্লিষ্ট সমস্যা বা অসুস্থ্যতা দেহে তৈরী হয়। উদাহরণ হিসেবে- ভিটামিন ও খনিজ উপাদান (মিনারেল) ঘাটতি হলে কি কি ধরণের সমস্যা হতে পারে তার একটি তালিকা দেওয়া হলো- ভিটামিনের অভাব জনিত রোগ ও খনিজ উপাদান (মিনারেল) এর অভাব জনিত রোগ।


কোষ বিভাজনের সময় ১ লক্ষ ২০ হাজার ধরণের ত্রুটি হতে পারে ও দেহ তার নিজস্ব ব্যবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে এই ত্রুটি সমূহ সারিয়ে তোলে। কোন কারণে কোষের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে ঐ ১ লক্ষ ২০ হাজার ধরণের ত্রুটি সমূহ সঙ্গে সঙ্গে সারিয়ে তুলতে পারে না। ফলে যেসব ত্রুটি রয়ে যায়, ঐসব ত্রুটিই মানবদেহে রোগের কারণ ঘটায়।


“Treatment Applying Stem Cell Nutrition” পদ্ধতির চিকিৎসায় কোষ বিভাজনের সঠিক পুষ্টির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় যাতে করে বিভাজসের সময় সৃষ্ট ত্রুটির কোন অস্তিত্ব না থাকে এবং কার্য সম্পাদনকারী কোষ সমূহ তাদের কার্য সম্পাদনের জন্য কোনধরণের অপুষ্টিতে না ভোগে। ফলে দেহ তার প্রাকৃতিক ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিতে শরীরকে সুস্থ্য ও নিরোগ রাখে।


“Treatment Applying Stem Cell Nutrition” পদ্ধতির চিকিৎসার বিভিন্ন নামে সারা বিশ্বে ধীরে ধীরে প্রসার লাভ করছে। বাংলাদেশেও ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কিডনিরোগ, হৃদরোগ, পাইলস, যৌন রোগ, বন্ধাত্ত, চুল পড়া, স্কিন সৌন্দর্য , প্যারালাইসিস, গ্যাস্টিক আলসার, উচ্চ রক্তচাপ, এজমা, ঠান্ডা রোগ, চর্মরোগ, চোখের রোগসহ যেকোন ধরণের জটিল রোগের নিরাময় করা হচ্ছে। 

ড. শিভেন্দ্র কর্মকার (PHD USA) ও স্টেমসেল গবেষক, উনার কাছে টাইম বাংলা নিউজের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাইদুজ্জামান সেলিম কোষের উৎকৃষ্ট ৬টি খাবার বা সাপ্লিমেন্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে উনি বলেন, আগামীর চিকিৎসা বিজ্ঞান স্টেমসেল থেরাপি নির্ভর হয়ে উঠবে। কোষের পরিচর্যা সৃষ্টিকর্তা ড্রাগ বা ডাক্তারের হাতে রাখেনি বরং এই সক্ষমতা শুধু মাত্র ন্যাচারের হাতেই রয়েছে। এগুলো আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকেই কোষ গ্রহণ করার কথা ছিল কিন্তু বেজাল খাবার, খাবার তৈরির পদ্ধতি, বেজাল পরিবেশের কারণে আমরা যা খাচ্ছি তা কোষকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।  এই সেক্টরে গ্লোবালী সুনাম কুড়িয়েছে সুইজারল্যান্ড মেবেল কোম্পানির (মেবেল বায়োকেমিস্ট্রি - Mibelle Biochemistry) চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. ফ্রেড জুলি (Dr. Fred Zulli) স্টেম সেল প্রযুক্তিতে, বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ স্টেম সেল (PhytoCellTec) সাপ্লিমেন্ট গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডের এই মেবেল কোম্পানির সাপ্লিমেন্ট গুলো মালোশিয়া কোম্পানি লিভেন গ্লোবাল এর হাত ধরে অলরেডি বাংলাদেশে হাজার হাজার নিরুপায় অসহায় মানুষের আশার আলো জাগিয়ে চলেছে। তবে শুরুতে আমাদের বডিকে ডিটক্সিফাইড করে নেয়া জরুরি।  আমি আশাবাদী শীগ্রই বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে স্টেমসেল থেরাপির চর্চা শুরু হবে।

যদি কেও ড. শিভেন্দ্র কর্মকার  এর হেলথ এওয়ার্নেস ফ্রী সেমিনার দেখতে চান ত মালিবাগ চৌধুরী পাড়া সকাল ৯-১২টা প্রতি শুক্রবার ও শনিবার এসে নিচের নাম্বারে কল করুন  ০১৭২১০৭০৮০০.

সর্বশেষ