দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণসংযোগের করায় গাবতলীতে জামায়াত নেতার বাড়িতে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ড
বগুড়ার গাবতলীর নেপালতলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনের বাড়িতে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণসংযোগ ও অফিস উদ্বোধনের পরপরই এই ঘটনা ঘটায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনগত রাতে নেপালতলী ইউনিয়নের বুরুজ বাজারে পাশে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ নগদ অর্থ পুড়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, গাবতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আলমগীর হোসেন একজন ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তি। রাতে পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে তাদের ধারণা। আগুনের ঘটনা টের পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন, বুরুজ বাজারে দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণসংযোগ ও একটি অফিস উদ্বোধন শেষে আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আমার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে যাই। আমার ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। ঘরে রাখা নগদ ৬০ হাজার টাকাও আগুনে পুড়ে যায়। মোট প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
গাবতলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইউনুছ আলী বলেন, আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে বুরুজ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ হয়েছে। জনগণের ব্যাপক সাড়া দেখে একটি কুচক্রী মহল রাতের আঁধারে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। হুমকি, সন্ত্রাস ও আগুন দিয়ে আমাদের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।
গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের মনোনীত এমপি প্রার্থী এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন,আমরা কাউকে আগেভাগে অভিযুক্ত করতে চাই না। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
মতামত দিন