মুসলিম দেশগুলোতে সাধারণত দেখা যায়—সারা বছর ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক নিয়মে লাভ করলেও পবিত্র রমজান মাস এলে তারা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন, কাতার-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, এমনকি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া-তেও রমজান মাসে অনেক ব্যবসায়ী সীমিত লাভে, কখনও কখনও বিনা লাভে পণ্য বিক্রি করে থাকেন। এই মাসকে তারা শুধু ব্যবসার সময় হিসেবে নয়, বরং আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও বরকতের সময় হিসেবে দেখেন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের বাংলাদেশ-এ চিত্রটি প্রায়ই ভিন্ন দেখা যায়। সারা বছরই যেখানে ভোক্তারা বাড়তি দামের চাপে কষ্টে থাকেন, সেখানে রমজান এলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেন সাধারণ মানুষের জীবনযাপনই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
রমজান তো সংযম ও সহানুভূতির মাস—এ মাসে মানুষের কষ্ট না বাড়িয়ে বরং কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই হওয়া উচিত আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন এই পবিত্র মাসে বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখেন, অসাধু মুনাফাখোরদের নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করেন।
রমজানের প্রকৃত শিক্ষা যদি আমরা হৃদয়ে ধারণ করি, তবে বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটবে—এটাই হোক আমাদের সবার প্রত্যাশা।
মতামত দিন