আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: শিশুসহ নিহত ৬, আহত ১২ — উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা Kam Air–এর জ্বালানি তেলের ডিপো। একই সময়ে রাজধানী Kabul ও পূর্বাঞ্চলের Nangarhar Province–এর কয়েকটি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় শিশুসহ অন্তত ৬ জন নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় রাতভর উৎকণ্ঠা বিরাজ করে।
আতঙ্কের রাত:
৩৫ বছর বয়সী মুরসেলিন নামের এক বাসিন্দা, যিনি রাজধানী কাবুলে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস করেন, হামলার সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন,
“হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চারপাশ ধুলায় ঢেকে গিয়েছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সন্তানদের চিৎকার শুনতে পাই—তারা ভয়ে কাঁপছিল।”
মুরসেলিন জানান, হামলার সময় তার বোন এবং বোনের দুই শিশুসন্তান আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তালেবান সরকারের প্রতিক্রিয়া:
তালেবান সরকারের মুখপাত্র Zabihullah Mujahid পাকিস্তানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কান্দাহারের ওই তেলের ডিপো থেকে বেসরকারি উড়োজাহাজের পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন ফ্লাইটেও জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
তার মতে, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চলই অস্থির হয়ে আছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।”
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট:
গত মাসেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রথমে ইসলামাবাদ থেকে হামলা চালানো হলে পরে কাবুল পাল্টা হামলা চালায়। ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
পরে China–এর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়। তবে বৃহস্পতিবার রাতের নতুন হামলার ঘটনায় আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পাকিস্তানের দাবি:
পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কাবুল, কান্দাহার ও **Paktia Province**–এর চারটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তারা কান্দাহারের তেলের ডিপোতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও অন্য লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা:
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হুমকির ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার বড় মাশুল গুনতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।
মতামত দিন