• ২০২৬ মার্চ ২৩, সোমবার, ১৪৩২ চৈত্র ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৩ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের তেলের পাম্প গুলো।

  • প্রকাশিত ০৭:০৩ অপরাহ্ন সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬
যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের তেলের পাম্প গুলো।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় বন্ধের শঙ্কায় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো।

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যে কোনো সময় পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে সংগঠনটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বর্তমানে মারাত্মক সংকটের মধ্যে রয়েছে। ডিপো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে পাম্পে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনে শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল এবং একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। পাশাপাশি তাদের আরেকটি পাম্পে প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি সংরক্ষিত ছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় এই মজুত কয়েক দিন বিক্রির জন্য যথেষ্ট হলেও হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা, অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।

এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ করা হয়, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে কিছু লোক পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি কোথাও কোথাও মব তৈরি করে পাম্প খুলে তেল লুটের ঘটনাও ঘটেছে। ঠাকুরগাঁও-এর একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে পুরো মজুত শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, শুধু পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। পথে ট্যাংকার লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও পেট্রোল পাম্প এবং পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায়, ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং বাধ্য হয়ে পাম্পগুলো বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

সার্বিকভাবে, জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার এই দ্বিমুখী চাপ দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ