• ২০২৬ এপ্রিল ২৩, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ বৈশাখ ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সরিষাবাড়ীতে কৃষি কার্ড নিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক। সেচের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে খেত

  • প্রকাশিত ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
সরিষাবাড়ীতে কৃষি কার্ড নিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক। সেচের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে খেত
জ্বালানি পেতে ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কৃষকদের।
জেলা প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেলের সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ ও সেচকাজ। অন্যদিকে জ্বালানি তেল ঠিকমতো না পাওয়ায় যাত্রা বাতিল হচ্ছে যাত্রীবাহী বাসগুলোর। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষক ও বাসযাত্রীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিজেল নিতে পাম্পগুলোতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি কারো হাতে তেল নেওয়ার ক্যান বা বোতল, আবার কেউ শ্যালো মেশিনের ফুয়েল ট্যাংক নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ফজর নামাজের পর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় কৃষকদের। তারা বলছেন, ডিজেল না থাকায় গত কয়েক দিন থেকে বন্ধ রয়েছে ডিজেল চালিত অধিকাংশ সেচ পাম্প পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় ধানের চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে মনে হচ্ছে মাঠের এই ফাটল কেবল মাটির নয়, বরং কৃষকের বুক চেরা হাহাকার। সোনালি স্বপ্নের বদলে এখন তাদের চোখমুখে কেবলই অন্ধকারের হাতছানি।

স্থানীয় কার্ডধারী কৃষক আজমত আলী, দিদার আলী, মোফাজ্জল হকসহ একাধিক বার কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন ধরেই কৃষি কার্ড নিয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছি না সেই ভোররাত থেকে পাম্পে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক সময় তেল না পাওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে যে টুকুও তেল পাওয়া যায় তা একেবারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল

তারা জানান, ‘এখন আমাদের মাঠে কৃষিকাজের ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। জমি চাষ, সেচ এবং কৃষিযন্ত্র চালাতে ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তেলের সংকটে শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র, পাওয়ার টিলার, ধান কাটার মেশিন ও ট্রাক্টর বন্ধ থাকায় অনেক জমির কাজ করতে পাচ্ছি না।'


এদিকে তেলসংকটের কারণে যাত্রা বাতিল হচ্ছে বিভিন্ন গণপরিবহনের। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রীদের একটি বাস কোম্পানির ম্যানেজার রাজু আহাম্মেদ বলেন, 'তেলসংকটের কারণে আমরা ঠিক সময়মতো বাস সার্ভিস দিতে পারছি না। তেল আসলে একদিন আগে থেকেই পাম্পে বাসগুলো সিরিয়ালে রাখতে হয়। যার কারণে প্রায়ই যাত্রা বাতিল করতে হয়। এতে করে ভোগান্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রীরা।'

নূরজাহান ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. সুমন মিয়া বলেন, ‘আমরা সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি। যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এই ডিজেল ট্রাক, বাস, বিভিন্ন যানবাহন ও কৃষকদের দেওয়া হয়। অনেক সময় লম্বা লাইনের কারণে তেল শেষ হয়ে গেলে সারা দিন লাইনে থাকার পরও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। যা আমাদের জন্যই দুঃখজনক ও কষ্টকর। আবার অনেক সময় তেল না পেয়ে পাম্পে ভাঙচুরও চালায় গ্রাহকেরা।'

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানান, কৃষি খাতে সেচ প্রকল্প, ট্রাক্টর ও অন্যান্য মেশিনারিজ যন্ত্র চালানোর জন্য ডিজেল প্রয়োজন আর সামনে ডিজেল আরো বেশি প্রয়োজন হবে চাপ পড়বে আশা করি, ডিজেলের সমস্যা অতি দ্রুত সমাধান হবে। তিনি জানান, সব কৃষককে ফুয়েল কার্ডের জন্য কৃষি অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক কৃষক আবেদন করেছেন কবে কার্ড পাবেন আর তেল পাবেন কেউ জানেন না।

সর্বশেষ