নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরে মিলল কাস্টমস সিপাহীর খণ্ডিত মরদেহ
ময়মনসিংহে নিখোঁজের ১০ দিন পর রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০) নামে এক কাস্টমস সিপাহীর টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের ১০ দিন পর রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০) নামে এক কাস্টমস সিপাহীর টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুলবাড়িয়ার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাকিব প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। তবে গত ২৪ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে নিজ ঘর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর স্বজনরা আত্মীয়-স্বজন ও তার কর্মস্থলে যোগাযোগ করেও কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের তিনদিন পর, ২৭ জুলাই, তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা রহস্যজনকভাবে পলাতক রয়েছেন। এদিকে উপজেলার অনন্তপুর বাজুয়া নদী এলাকা থেকে রাকিবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবির ছড়া উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু মির্জা টাঙ্গাইলের এক দালালের মাধ্যমে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তার পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে তার পাসপোর্ট দ্রুত জব্দের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা বলেন, ঘটনার পর থেকেই রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার পলাতক। তার সঙ্গে অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আমি জেলার বাইরে অভিযানে আছি। থানা থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, রাকিব রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, মরদেহ টুকরো টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। রোববার দুপুরের দিকে স্থানীয়রা পুকুরে একটি বস্তা দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মতামত দিন