টাংগাইলের গোপালপুরে ‘বাকি খাওয়া’ নিয়ে সংঘর্ষ: ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক পরিবার।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা-এ ‘বাকি খাওয়া’ নিয়ে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে নলিনবাজার এলাকায় একটি দোকানে বাকি নেওয়াকে কেন্দ্র করে গুলিপেচা গ্রামের টগর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলিপেচা গ্রামের কয়েকজন এসে দোকানদারকে মারধর করলে ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়। উত্তেজিত জনতা গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায় এবং আশপাশের অসংখ্য বাড়িঘরে ভাঙচুর করে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালপুর, ভূঞাপুর ও হেমনগর থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সংঘর্ষে নলিনবাজার এলাকায় কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় পুনরায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মতামত দিন