• ২০২৬ মে ২২, শুক্রবার, ১৪৩৩ জ্যৈষ্ঠ ৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

পঞ্চগড়ে বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হাসপাতালে ছাত্র

  • প্রকাশিত ০১:০৫ পূর্বাহ্ন শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬
পঞ্চগড়ে বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হাসপাতালে ছাত্র
File
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় শাহজালাল (১২) নামের বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্রকে বুধবার (২০ মে) স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামের বাড়ি জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের উত্তর কালিবাড়ী গ্রামে। তিনি উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক। নির্যাতনে শিকার মাদরাসাছাত্র শাহজালাল উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কালদাসপাড়া গ্রামের মতিরুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার নির্যাতনকারী শিক্ষক ও ওই মাদরাসার মুহতামিমের নামে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের শিকার ছাত্রের বাবা মতিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হেফজ বিভাগের ওই ছাত্র রুটিন মোতাবেক পড়া মুখস্ত বলতে না পারার অজুহাতে বেতের লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করেন শিক্ষক রাশেদুজ্জামান। এতে তার দুই পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশি^রা জখম হয় এবং হাতের কবজিতে গুরুত্বর আঘাত পায়। পরে কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে মাদরাসায় আটকে রাখা হয়। পরের দিন কৌশলে শিশুটি মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর উপজেলার ওই ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি গ্রামের সাদিয়া আক্তার ও আজিমা বেগমের বাড়ীতে তার ছেলে আছেন কালদাসপাড়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের কাছ থেকে জানতে পেরে সেখানে যান। এরপর নির্যাতনের ঘটনাটি অভিভাবকদের খুলে বলে। তিনি আরও জানান, ওই মাদরাসার মুহতামিম তার ছেলের কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। নির্যাতনকারী শিক্ষক ও মুহতামিম মিলেই তার ছেলেকে মাদরাসায় আটকে রাখেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, পড়া দিতে না পাড়ায় তিনি শাহজালালকে মারছেন।
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসার মুহতামিম জিল্লুর রহমান বলেন, কমিটির মিটিং এ আমরা বারবার বলছি কোনো ছাত্রকে মারপিট করা যাবেনা। কয়েকদিন হয়নি মিটিং হয়েছে সেখানে মারধর করা যাবেনা শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও রাশেদুজ্জামান হুজুর কখন মারছে তা তিনি বলতে পারছেন না। এদিকে রাশেদুজ্জামান মারধরের কথা স্বীকার করলে জিল্লুর রহমান বলেন, এটি খুবই দুঃখ জনক ঘটনা।    

বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মজিবর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত নন। তবে ছাত্রকে মারপিট করা শিক্ষকের ঠিক হয়নি।

বুড়াবুড়ি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারেক হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। তবে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ‘ভর্তির সময় আহত শাহজালালের পায়ে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধরের চিহ্নের দাগ পাওয়া গেছে। তবে হাতের কবজিতে অতিরিক্ত ফুলা থাকায় এক্সরে করার নির্দেশ প্রদান করেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার।  

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। ওই মাদরাসার সভাপতি সময় নিয়েছেন তবে অভিযোগকারী চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ‘বিষয়টি অবগত আছি, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ