• ২০২৬ Jul ১৫, বুধবার, ১৪৩৩ আষাঢ় ৩০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েবিএনপি নেতা বললেন, ‘এলাকা ছাড়’ !

  • প্রকাশিত ০১:০৭ পূর্বাহ্ন বুধবার, Jul ১৫, ২০২৬
নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েবিএনপি নেতা বললেন, ‘এলাকা ছাড়’ !
আহত অবস্থায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের ছিড়েঁ যাওয়া কানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতের তোলাছবি: সংগৃহীত
বিশেষ প্রতিনিধি

নরসিংদীর জেলার,পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াছবি: সংগৃহীত  নরসিংদী জেলার,পলাশ উপজেলায় একজন বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিএনপির এক নেতা কানে কামড় দিয়ে ছিড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ব্যবসায়ীর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে ।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম মহিউদ্দিন চিশতিয়া। তিনি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী বালু ব্যবসায়ীর নাম মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (৪৮)। তাঁর বাড়ি পাশের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য মতে ,ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের ভেতরে টি কে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাটের কাজে শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বিকেলে ড্রেজার শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে জুটমিলের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন এসে তাঁর গতি পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বাড়িতে যান ওই ব্যক্তিরা। বাড়িটিতে তাঁকে এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ আরও ৬-৭ জন কিলঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন।

সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য, গলা চেপে ধরে সাখাওয়াতের এক কানে কামড় বসিয়ে দেন বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন। রক্তাক্ত অবস্থায় ছিঁড়ে যাওয়া কান চেপে ধরলে ‘ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি’ দেওয়া হয় তাঁকে।

সাখাওয়াত হোসেনের বলেন , একপর্যায়ে মহিউদ্দিন কেন তাঁকে না জানিয়ে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে তা জানতে চান। উত্তর দেওয়ার আগেই গলা চেপে ধরে সাখাওয়াতের এক কানে কামড় বসিয়ে দেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় ছিড়েঁ যাওয়া কান চেপে ধরলে ‘ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি’ দেওয়া হয় তাঁকে। ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছান ।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততা দেখান অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া। তিনি বলেন বিএনপির নেতা , ‘ড. আবদুল মঈন খান স্যারের এক প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে ভিডিও বক্তব্য দিয়ে বিস্তারিত জানাবো আমি ।

এদিকে কানে কামড়ের গুরুতর জখম নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকে নিশ্চিত  করেছেন পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যার পর রোগীর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি এখন আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।’

এ ঘটনার বিষয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তা ।




সর্বশেষ