• ২০২৬ Jul ২৯, বুধবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৭ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

১০ বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে ১৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, তবু নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

  • প্রকাশিত ১০:০৭ অপরাহ্ন বুধবার, Jul ২৯, ২০২৬
১০ বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে ১৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, তবু নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
File
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

১০ বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে ১৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, তবু নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা


বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা গত এক দশকে ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন বিভাগের সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টি, যা ২০১৪ সালের ১০৬টির তুলনায় ১৯টি বেশি।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। এরপর ধারাবাহিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে ২০২৪ সালের জরিপে সেই সংখ্যা বেড়ে ১২৫-এ পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১৭টি বাঘের উপস্থিতি রয়েছে বলে বন বিভাগের তথ্য বলছে।

তবে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। সুন্দরবন সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ৯১টি বাঘ মারা গেছে। এর মধ্যে ৫৮টি বাঘ শিকারি বা দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছে, ৩০টি বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে মারা গেছে এবং তিনটি প্রাণ হারিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

তার মতে, হরিণ শিকার ও বনদস্যুদের তৎপরতা এখনও সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি। সম্প্রতি শিকারিদের পাতা ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়ার ঘটনাও পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. সামিউল হক বলেন, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের জন্য সাধারণত ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এবং স্ত্রী বাঘের জন্য ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার বিচরণক্ষেত্র প্রয়োজন হয়। তবে পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা থাকলে তুলনামূলক ছোট এলাকাতেও বাঘ টিকে থাকতে পারে।

তিনি বাঘ সংরক্ষণে হরিণ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ, বন উজাড় প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী পাচার ও শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং চোরাশিকারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ক্যামেরা ট্র্যাপ ও রেডিও কলারের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শও দেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন বলেন, মানুষের অতিরিক্ত বনাঞ্চলে প্রবেশ এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বাঘের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। তাই সুন্দরবনের সংবেদনশীল এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে বাঘের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সর্বশেষ জরিপে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি বলেন, হরিণ পাচার রোধে ইতোমধ্যে ১৩৫ জন সন্দেহভাজন পাচারকারীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের ক্ষতির সঙ্গে কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত। সরকার বনদস্যু দমন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং হরিণ পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, সম্প্রতি শিকারিদের ফাঁদে আহত একটি বাঘকে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। তাই বাঘের নিরাপদ অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য দীর্ঘমেয়াদে আরও সুরক্ষিত থাকবে।

সর্বশেষ