পাপিয়া কান্ডের মাফিয়া কক্সবাজার জেল সুপার মোঃ ওবায়দুর সিন্ডিকেট এর কাছে বন্দিরা জিম্মি!
আর কত কক্সবাজার জেলা কারাগারে দুর্নীতি হলে ঘুম ভাঙবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের?
"রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ"সেই স্লোগানটির উল্টা চিত্র কক্সবাজার কারাগারে।
জেলা কারাগারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেন
এসব বিষয় দামাচাপা দেওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ জেল সুপারের।
যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে জেল সুপার, ওবায়দুর রহমান । যার পাঁচ মিনিটের কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
অথচ জেলসুপার এই বিষয়ের সত্যতা পাওয়ার পরও এখনো এই দুই ডেপুটি জেলারের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি?তা নিয়ে শঙ্কায় ভুক্তভোগীরা। সচেতন মহলের প্রশ্ন? কারাগারের দায়িত্ব থাকা ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষরা তাদের অদৃশ্য শক্তি দিয়ে অপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। না হয় কেন? ঘুষবাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এই দুই দুর্নীতিবাজ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি?
রক্ষক যখন ভক্ষকে পরিণত হয় তখন সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ।
সদ্য জেল থেকে বের হওয়া সাইফুল নামের এক যুবকের অভিযোগ- রাজনৈতিক মামলার আসামিদের জামিননামা আসলে আর কথাই নেই। গুনতে হবে ১০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা। তাদের ইচ্ছা মত টাকা আদায় না হলে,ডেপুটি জেলারের রুম থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না,এমন অভিযোগ সদ্য জেল থেকে বের হওয়া আসামিদের।
ইতিমধ্যে জেলখানা থেকে বের হওয়া আসামিদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, ডেপুটি জেলামর নোবেল দে এবং তরিকুল।
তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড় । যেমন- এম এ মুনাফ শিকদারের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা,
এহেসানুল হক মিলন এর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
তামজিদ পাশার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা এবং মোঃ যাওফির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা।এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাচাই-বাছাই করেছেন জেল সুপার মোঃ ওবায়দুর রহমান । সে এসব বিষয়ে সত্যতা পেয়েও না পাওয়ার ভান করে আছে। যা- শিয়াল মামার পাঠশালার গল্পকেও হার মানিয়েছে।
এইভাবে বিভিন্ন আসামিদের কাছ থেকে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কারাগারের কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে,
কক্সবাজার কারাগারের বর্তমান জেল সুপার মোঃ ওবায়দুর রহমান এর বিরুদ্ধে
অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্যান্টিন বাণিজ্য,মেডিক্যাল বাণিজ্য,সেলবাণিজ্য,ওয়াড বাণিজ্য,বন্দীদের খাবারের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
গত ঈদুল আজহার ডায়েট বাণিজ্যের অভিযোগ জেল সুপার এর বিরুদ্ধে, জেল থেকে বের হওয়া মোঃ রাসেল জানান, গত কোরবানির দিন বন্দীদের রাত্রে খাবারে দুই টুকরো মাংস এবং এক টুকরো হাড্ডি এক টুকরো চর্বি যার পরিমাণ আনুমানিক ১৫ গ্রাম। এভাবে বন্দীদের খাবারে ও অনিয়ম করা হয়, বাকি খাবারগুলো গেল কোথায়- এমন প্রশ্ন? সাধারণ বন্দিদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। অর্থের বিনিময়ে কারাগারে নানা সুবিধা দেওয়া হলেও, টাকা না দিলে বন্দীদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত কঠিন করে তোলা হচ্ছে।
১৫ দিন পর পর সাক্ষাতের নিয়ম থাকলেও তাদের নির্দিষ্ট টুকেনের মধ্যে দিয়ে টাকার বিনিময় দেখার সুযোগ রয়েছে।
কারাগার মূলত অপরাধীদের সংশোধনের স্থান। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কারাগারের ভেতরে গড়ে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়ভীতির এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক। অভিযোগ আছে, জেল সুপার, ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে কিছু কারারক্ষী ও কর্মকর্তার মাধ্যমে বন্দীদের কাছ থেকে টাকা আদায়, নির্যাতন এবং মাদক বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।
অনুসন্ধান উঠে এসেছে কক্সবাজার জেলা কারাগারের আরো ভয়ংকর চিত্র-
জেল সুপার ওবায়দুর রহমান সিন্ডিকেট দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কারাগার।
যেমন - উৎকোচ গ্রহণের দায়িত্বে আছেন যারা!
সুবেদার শাহজালাল ,সার্জেন আমিনুল ইসলাম,সহকারীর প্রধান কারারক্ষী ইওছুফ
কারারক্ষী ২২২৬৭ শামসুল আলম,
২২৯৮১ আব্দুল গফুর, আইসিটি দায়িত্বে কারারক্ষী নং ২৩০৮৩ জাহিদ হাসান, কারারক্ষী আছীম, কারারক্ষী নাজির, কারারক্ষী রাজিব, কারারক্ষী গফুর তিনি-এক সময় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক নিয়ে ধরা পড়ে সাময়িক বরখাস্ত ছিল। এখন সেই গফুর কক্সবাজার কারাগারের জেল সুপার, মোঃ ওবায়দুর রহমান এর বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার ও পোস্টিং বাণিজ্যের দায়িত্বে।
আরো মজার বিষয় হলো,২২২৬৭ কারারক্ষী শামসুল আলমের পাঁচ মাস পূর্বের বদলির আদেশ আসলেও অদৃশ্য শক্তিতে, রহস্যজনক কারণে এখনো রয়ে গেছে কক্সবাজার কারাগারে। আরো অভিযোগ আছে- সাবেক বিতর্কিত জেল সুপার নেসার আলমের বডিগার্ড হয়ে অনেক অপকর্মের মাস্টারমাইন্ড কারারক্ষী আছীম।
আবারো ফের বর্তমান জেল সুপার মোঃ ওবায়াদুর রহমানের বডিগার্ড। কারারক্ষী আছিম এর বিরুদ্ধে পূর্বে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে,তার যথাযথ প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
দীর্ঘ গভীর অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে- বর্তমান কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ ওবাইয়াদুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থলের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ রয়েছে তিনি পাপিয়া কাণ্ডের অভিযুক্তা।
অক্টোবর ৩,২০২৪ একটি গেজেট প্রকাশ হয়,
তিনি ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার (প্রধান প্রশিক্ষক) কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাজশাহী ০৩/০১/২০২৩ তারিখ হতে ০৯/০৮/২০২৩ তারিখ পর্যন্ত কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত ছিলেন।
মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত থাকাকালীন ২৭/০৬/২০২৩ তারিখ দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় " কারাগারে নির্যাতিত সেই নারী জামিনে মুক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি " শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কারা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত ০৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরজমিনে তদন্ত করে, তাদের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে মোঃ ওবায়াদুর দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলার প্রমাণিত হয়।
গত-১৮/০৬/২০২৩ তারিখ ওয়ার্ড ইনচার্জ কয়েদি নাজমা এবং অপর কয়েদি জাহানারা, বন্দী রুনা লায়লাকে তল্লাশি করে বন্দির নিকট হতে ৭,৪০০/ টাকা উদ্ধার করেন এবং ১৯/০৬/২০২৩ তারিখ উদ্ধারকৃত টাকা কে দিয়েছে, সেই ব্যক্তির নাম উদঘাটন করতে গিয়ে মেট্রল মোছাঃ ফাতেমা আক্তার এবং চিফ রাইটার কয়েদি নং ২০২২/এ পাপিয়ার অতি উৎসাহের কারণে কেস টেবিলে বন্দী পাপিয়া ও তার অনুসারী বন্দিরা (অবন্তিকা,অনিন্দিতা,বুক্সি,সোনিয়া,নাজমা,লাবুনি,আছমা,শিউলীসহ আরো অনেকে) মিলে বন্দী রুনা লায়লাকে অতি মাত্রায় মারধর করলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ।এবং তিনি কারাগারের প্রধান ও সার্বিক নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রচ্ছন্নভাবে আলোচিত সাজাপ্রাপ্ত বন্দি শামীমা নুর পাপিয়াকে প্রশ্রয় দিয়েছিল।
মোঃ ওবায়দুর প্রশ্রয়ে বন্দি পাপিয়া কারাগারে নিজের প্রভাব কাটানোর জন্য স্টাফ ও বন্দীদের মাঝে উপটোকন ও খাবারের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করতেন যা দুর্বল প্রশাসনের বহি: প্রকাশ এবং কারাগারের অন্যান্য বন্দিরা পাপিয়ার ভয়ে ভীত থাকত ও সন্ধ্যার পরে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বন্দী পাপিয়া রাত্রি ৮/৯ টা পর্যন্ত অবস্থান করতেন যা জানা সত্বেও মোঃ ওবায়দুর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি,যা দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলার সামিল এবং ১৯/০৬/২০২৩ তারিখে ঘটে যাওয়া ঘটনা তিনি টেলিফোনে বা পত্র মারফত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে দায়িত্ব অবহেলা ও বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। বন্দী রুনা লায়লাকে আহত করার ঘটনা জেনে বুঝেও একাধার ভিকটিম রুনা লায়লার নিকট হতে উদ্ধারকৃত ৭,৪০০/ টাকা বাজেয়াপ্ত, ৩০ দিন সাক্ষাত বন্ধ,৭ দিন ফোনে কথা বলা বন্ধ করছে এবং হাতকড়া দেওয়ার মত কঠোর শাস্তি প্রদান করায় যা কারা বিধি - ৭০৭ ধারা লঙ্ঘন করেছেন।
২৩/০৬/২০২৩ তারিখে
রুনা লায়লার পরিবারকে তার শারীরিক অবস্থা জানা সত্ত্বেও কোন কিছু অবহিত করেনি। রুনা লায়লাকে যে শাস্তি স্বরূপ তার পরিবারের সাথে দেখা করতে দেয়া হবে না মর্মেও তার পরিবারকে অবহিত করেনননি।তার কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা -২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী 'অসদাচরণ' বিধায়। বিভাগীয় মামলা নং ০২/২০২৪ রুজু করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অভিযোগনামা ও বিবরণী প্রেরণ করে। অভিযুক্ত ২৫/০২/২০২৪ তারিখে উক্ত অভিযোগ নামার জবাব প্রদান করেন এবং ব্যক্তিগত সুনানির জন্য প্রার্থনা করেন। গত ০২/০৫/২০২৪ তারিখে ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগনামার জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানিতে মোঃ ওবায়দুরের বক্তব্য সন্তোষজনক জনক বিবেচিত না
হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৭(২)(ঘ) বিধিমতে গত ০৯/০৫/২০২৪ তারিখ দুই
সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্ত কমিটি গত ০৭/০৭/২০২৪ তারিখ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত কমিটি কর্তৃকিত দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে জনাব মোঃ ওবায়দুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার(প্রধান প্রশিক্ষক) কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,রাজশাহী এর বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরন এর অভিযোগ সমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত মর্মে উল্লেখ করেন। জনাব মোঃ ওবায়দুর রহমান,ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার (প্রধান প্রশিক্ষক) কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাজশাহী - কে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা,২০১৮ এর বিধি ৪(২)(ঘ) বিধি অনুযায়ী বেতন কার্যক্রমের সর্বনিম্ন ধাপে
এক বৎসরের জন্য অবনমিতকরণ' লঘুদন্ড প্রদান করেন।
কারামুক্ত সাইফুল অভিযোগ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে অনিয়ম ও দুর্নীতির শেষ নেই। কারাবিধি ও জেল- কোর্টের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ইচ্ছেমতো বন্দীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।
জেল সুপার, মোঃ ওবায়দুর রহমান,
জেলার দেলোয়ার জাহান
ডেপুটি জেলার নোবেল দে,এবং তরিকুলের
বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও জেলার দেলোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল।
জেল ফেরৎ আসামি আসিক, রাসেল, এহসান, সরোয়ার এর অভিযোগ অনুযায়ী যারা টাকা দিতে পারেন না, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। অনেক সময় তাদের আলাদা কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বন্দীকে ফিল্মি কায়দায় ধরে এনে ‘কেস টেবিল'এ বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
একজন বন্দীর স্বজন জানান, তার আত্মীয়কে কয়েকবার মারধর করা হয়েছিল শুধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস দেখানোর কারণে।
টাকার বিনিময়ে কাজের বণ্টন,কারাগারের ভেতরে রান্নাঘর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মালামাল বহনসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। এসব কাজ সাধারণত বন্দীদের মধ্যেই বণ্টন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজ পেতে হলে দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা।
যারা টাকা দিতে পারেন তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক কাজে যুক্ত হন। এতে তাদের চলাফেরা ও যোগাযোগের সুযোগও বাড়ে। অন্যদিকে টাকা দিতে না পারা বন্দীরা এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, বন্দীরা যাতে একত্রিত হয়ে কোনো অভিযোগ করতে না পারে সেজন্য তাদের উপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়। কেউ যদি বেশি কথা বলতে বা আলোচনা করতে দেখা যায়, তখন তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে অনেককে ‘কেস টেবিলে’ নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয়। কেউ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে এমন খবর পাওয়া গেলে তাকে শাস্তিস্বরূপ ‘সেল’-এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কারাগারের ভেতরে মাদক বাণিজ্য:
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ ও বিক্রি নিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছু কারারক্ষী ও সুবেদারের মাধ্যমে বন্দীদের কাছে মাদক সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এতে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, কারাগারের বাইরে থাকা কিছু মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নিয়মিত মাদক সংগ্রহ করা হয় এবং পরে বিভিন্ন উপায়ে তা ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
অনুসন্ধানী বক্স–১: টাকার বিনিময়ে সুবিধার ‘অঘোষিত রেট তালিকা’ অনুসন্ধানে বন্দীদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেতে অঘোষিতভাবে টাকা দিতে হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী—
* তুলনামূলক ভালো ওয়ার্ডে থাকার জন্য টাকা
* রান্নাঘর বা অন্যান্য কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য টাকা
* চিকিৎসা সুবিধা দ্রুত পাওয়ার জন্য টাকা
* নির্যাতন বা হয়রানি এড়ানোর জন্য টাকা
বন্দীদের স্বজনদের দাবি, এসব টাকা অনেক সময় সরাসরি আবার অনেক সময় মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয়।
অনুসন্ধানী বক্স–২: কারাগারে মাদক ঢুকার সম্ভাব্য পথ: সূত্রগুলো জানায়, কয়েকটি কৌশলে কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে—
* দর্শনার্থীদের মাধ্যমে গোপনে সরবরাহ
* কারাগারের ভেতরের কিছু কর্মচারীর সহযোগিতা
* বন্দীদের মাধ্যমে ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া
এভাবে কারাগারের ভেতরে একটি ছোট আকারের মাদক বাজার গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সাবেক বন্দী।
অনুসন্ধানী বক্স–৩: ভয়ভীতির কারণে মুখ খুলতে পারে না বন্দীরাও
বন্দীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, অনেক বন্দী কারাগারের ভেতরের অনিয়ম সম্পর্কে জানলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।
কারণ হিসেবে তারা বলেছেন—
* অভিযোগ করলে নির্যাতনের ভয়
* ‘সেল’-এ পাঠিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা
* সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি
এ কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশের আগেই চাপা পড়ে যায় বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে জেলার দেলোয়ার জাহান এর বক্তব্য জানতে ওনার সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি বক্তব্য না দেওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে,
বাংলাদেশ কারাগারের মহাপরিদর্শক (IG prisons)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ
মোতাহার হোসেনের বক্তব্য নেওয়া হলে তিনি বলেন,আপনার মাধ্যমে এই বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমাদের ইনভেস্টিগেশন এর মধ্য দিয়ে অপরাধীদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার কারাগারের জেল সুপার মোঃ ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিরক্ত এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না,এসব প্রশ্ন আমাকে করিয়েন না, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে তাদের সাথে কথা বলেন।
তিনি উল্ঠো সাংবাদিকদের কাছ থেকে এসবের তথ্য প্রমাণ চান।
এই বিষয়ে, ডেপুটি জেলার নোবেল দে এর বক্তব্য নেওয়া হলে,তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন, তিনি প্রতিবেদককে প্রতিবেদন না করার জন্য অনুরোধ করেন। প্রতিবেদন হলে আমাদের জন্য অনেক সমস্যা।
তবে সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে, কারাগারের ভেতরের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।এবং কারাগারে যথাযথ নিয়ম -শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
মতামত দিন