• ২০২৬ অগাস্ট ০২, রবিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিন আহমেদের আটকের তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

  • প্রকাশিত ০৮:০৮ অপরাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ০২, ২০২৬
র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিন আহমেদের আটকের তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর
Time Bangla news
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিন আহমেদের আটকের তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর



আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, র‍্যাব-১-এর কথিত গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটকে রাখার তথ্য প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তাকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রাখা হয়েছিল এবং পরে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এসব কক্ষের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার মিল পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধি, রোম সংবিধি এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে সংরক্ষণ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে যুক্ত থাকবে।

পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, কয়েকটি কক্ষ এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিদের চোখ ও হাত বেঁধে আটকে রাখা হতো এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেককে পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজির করা হলেও বহু ব্যক্তি আর ফিরে আসেননি। এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ব্যারিস্টার আরমান যে কক্ষে আটক ছিলেন বলে বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে রাখা হয়েছিল বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেটিও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি জানান, র‍্যাব-১-এর এই স্থাপনা পরিদর্শনের পর আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনে যাবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা।

আইনগত দিক তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কথিত ‘আয়নাঘরে’ আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার মতে, অবৈধ আটক, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। এসব ঘটনায় বিচার কার্যক্রম চলছে এবং আরও বহু ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল নির্মাণ করে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামতও তদন্তকারীরা পেয়েছেন। পরে কয়েকটি দেয়াল অপসারণের পর আড়ালে থাকা কক্ষগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, নিচতলার একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় কোনো বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার না হলে এতগুলো ছোট ছোট কক্ষ কেন নির্মাণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট বা গোপন করার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউশন কাজ করছে। মাঠপর্যায়ে যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি নির্দেশদাতা ও তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আলোকে তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ