দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের জোতকৃষ্টাই গ্রামের উদ্যোক্তা মাওলানা মনিরুজ্জামান রিফাত বাণিজ্যিকভাবে কাঠলিচু (লংগান/আঁশফল) চাষ করে সাফল্যের নজির গড়েছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ২ একর জমিতে ১০০টি গাছের ফল বিক্রি করে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন। এছাড়া বাগানে উৎপাদিত প্রায় ১ হাজার চারা বিক্রি করে আরও অন্তত ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন।
প্রবাস জীবন শেষে ২০২২ সালে তিনি ভিয়েতনামের পিংকন ও পিংপং জাতের কাঠলিচুর চারা সংগ্রহ করে নিজের পোল্ট্রি খামারের পাশে বাগান গড়ে তোলেন। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের পরিচর্যায় গাছগুলো বাণিজ্যিকভাবে ফল দিতে শুরু করেছে। বর্তমানে দেশের বাজারে কাঠলিচুর কেজি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার প্রধান বাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম।
মনিরুজ্জামান রিফাত জানান, গত বছর প্রায় ৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন। এবার ফলনের পরিমাণ বাড়ায় বিক্রিও বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও উদ্যোক্তারা তার বাগান দেখে আগ্রহী হচ্ছেন এবং চারা কিনছেন। আকারভেদে প্রতিটি চারা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, এটি উপজেলায় প্রথম বাণিজ্যিক কাঠলিচুর বাগান। ভিয়েতনামি জাত হওয়ায় রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং স্বল্প কীটনাশক ব্যবহার করেই নিরাপদভাবে ফল উৎপাদন সম্ভব। উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
মতামত দিন