• ২০২৬ অগাস্ট ১৮, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত ০৬:০৮ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অগাস্ট ১৮, ২০২৬
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
টাইম বাংলা নিউজ
বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ শাখাওয়াত হোসেন

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান

বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ সাখাওয়াত হোসেন | টাইম বাংলা নিউজ

ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬: ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও জনবান্ধব, দক্ষ, আধুনিক ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জনগণ এখন এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতাদের আস্থা অর্জন করা রাজস্ব প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের প্রভাবের কারণে রাজস্ব প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে।

কর ব্যবস্থায় সহজীকরণের তাগিদ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর আদায়ের পদ্ধতি হতে হবে সহজ, স্বচ্ছ, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর নীতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম নতুন জনগোষ্ঠীকে শনাক্ত করে তাদের নিয়মিত কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ জন্য ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর আধুনিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা গেলে স্বেচ্ছায় কর প্রদানের প্রবণতা বাড়বে এবং রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ও শক্তিশালী হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা

পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন তিনি।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যেন ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

‘ভয় নয়, মানুষ এনবিআরকে বিশ্বাস করবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা আয়কর আদায় শুধু কঠোরতার বিষয় নয়। দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করদাতাদের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। এমন একটি এনবিআর গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ প্রতিষ্ঠানটিকে ভয় না করে বরং বিশ্বাস করবে।

রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

বিশ্লেষণ

অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব আহরণ একটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু বেশি কর আদায়ের পরিবর্তে করদাতার আস্থা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো এবং করের আওতা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এই নীতিগুলো বাস্তবে কার্যকর করা গেলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়তে পারে, অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ করদাতাদের সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনের দূরত্বও কমবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আহরণ ইতিবাচক ছিল। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দেশকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ