• ২০২৬ অগাস্ট ২০, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে ক্ষোভ, সাবানে ফেনা নেই—তেল নিয়েও অভিযোগ

  • প্রকাশিত ১২:০৮ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, অগাস্ট ২০, ২০২৬
টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে ক্ষোভ, সাবানে ফেনা নেই—তেল নিয়েও অভিযোগ
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে ক্ষোভ, সাবানে ফেনা নেই—তেল নিয়েও অভিযোগ


স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরিচালনা করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে বরিশালে সংস্থাটির সরবরাহ করা কয়েকটি পণ্যের মান নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডিটারজেন্ট পাউডার, বল সাবান, গায়ে ব্যবহারের সাবান ও পাম অয়েল নিয়ে নানা অভিযোগ করছেন তারা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, চাল-ডাল-তেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে সাবান ও পরিষ্কারক সামগ্রী নিতে হচ্ছে। এসব পণ্যের কয়েকটি ব্যবহারের পর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক গ্রাহক পণ্যগুলো নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। এতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও নগর এলাকার প্রায় ৫০০ ডিলারও পড়েছেন নানা সমস্যায়।

বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা মুক্তা সুলতানা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া ‘সাফ’ ডিটারজেন্ট পাউডারের গন্ধ ভালো হলেও এতে পর্যাপ্ত ফেনা তৈরি হয় না। কাপড় পরিষ্কারেও তেমন কার্যকারিতা পাওয়া যায় না বলে দাবি তার।

নবগ্রাম রোডের বাসিন্দা হাসি বেগমের অভিযোগ, একই প্রতিষ্ঠানের বল সাবান দিয়ে হাঁড়িপাতিলের কালো দাগ কিংবা থালাবাসনের ময়লা ঠিকমতো পরিষ্কার করা যায় না। তার দাবি, সাবান ব্যবহারের পর হাতে চামড়ার সমস্যাও দেখা দিয়েছে।

পাম অয়েল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘ফ্যামিলি’ পাম অয়েল কিছুদিন সংরক্ষণ করলে জমাট বাঁধার প্রবণতা দেখা যায়। রান্নার সময় বা রান্না শেষে সবজির ওপর চর্বির মতো আস্তরণ তৈরি হয় এবং তেল আলাদা হয়ে ভেসে থাকার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

ডিলার ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে টিসিবির পণ্য তালিকায় কাপড় ধোয়ার গুঁড়া সাবান, গায়ে ব্যবহারের সাবান এবং থালাবাসন পরিষ্কারের বল সাবান যুক্ত করা হয়। নির্ধারিত প্যাকেজের অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি এসব সামগ্রী সরবরাহ করা শুরু হয়। ফ্যামিলি কার্ডধারীদের কিউআর কোডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে পণ্য সংগ্রহ করতে হয়।

তবে গত ১২ জুলাই টিসিবির এক নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো গ্রাহককে সাবান বা গুঁড়া সাবান নিতে বাধ্য করা যাবে না। অবিক্রীত পণ্য থাকলে পরবর্তী মাসে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়।

এই নির্দেশনা নিয়েই আপত্তি তুলেছেন কয়েকজন ডিলার। তাদের বক্তব্য, গ্রাহকরাই যেখানে এসব পণ্য নিতে চাইছেন না, সেখানে অন্য ক্রেতার কাছে সেগুলো বিক্রি করা বাস্তবে কঠিন। তাছাড়া টিসিবির পণ্য নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে বিক্রির ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ রয়েছে।

বরিশাল নগরীর এক ডিলার বলেন, বাজারে প্রচলিত পণ্যের তুলনায় এসব সামগ্রীর দামও এমন নয় যে ক্রেতারা বিশেষ আগ্রহ দেখাবেন। ফলে দোকানে পণ্য জমে যাচ্ছে। তার দাবি, ডিলারদের কাছে বর্তমানে বিপুল অর্থমূল্যের পণ্য পড়ে রয়েছে এবং সেগুলোর অনেকগুলোর গায়ে বিক্রয়মূল্যও উল্লেখ নেই।

এদিকে ডিলারদের দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের চাল দেওয়া হচ্ছে না। এর বিপরীতে পাম অয়েল, ডিটারজেন্ট পাউডার ও বল সাবানের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এসব পণ্য গ্রহণ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বার্তা পাওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ডিলার।

তবে পণ্যের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, নতুন চালানে হুইল পাউডার ও চাকা বল সাবান সরবরাহ করা হচ্ছে। চাল সরবরাহের বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, টিসিবি মান যাচাই ছাড়া কোনো পণ্য কেনে না এবং নিম্নমানের পণ্য গ্রাহকদের দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আগের চালানে সরবরাহ করা সাফ ডিটারজেন্ট পাউডার, সাফ বল সাবান ও ফ্যামিলি পাম অয়েলও নিম্নমানের নয় বলে দাবি করেন তিনি।

অবিক্রীত পণ্য ফেরত নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, টিসিবির কাছে পণ্য ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণে কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী এক মাস পর ডিলাররা নিজেদের দোকানে রেখে তা বিক্রি করে অর্থ তুলে নিতে পারবেন।

সর্বশেষ