বর্ষার পানি কমতেই যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঢেপা নদীর পাড়। স্লুইসগেটের কপাট বন্ধ হওয়ার পর নদীর পানি কমতে শুরু করতেই মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শত শত মানুষ। বুধবার সকাল থেকেই স্লুইসগেটসংলগ্ন নদীতে জাল, পলোসহ নানা দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েন স্থানীয়রা।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। ছোট-বড় সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাছ ধরায়। কারও হাতে ঝাঁকিজাল, কারও হাতে খেপলাজাল, আবার কেউ পলো নিয়ে নেমেছেন পানিতে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদেরও দেখা যায় একই আনন্দে শামিল হতে।
স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় উজানের দিকে পানি কমে বিভিন্ন স্থানে মাছ আটকা পড়ে। সেই মাছ ধরতেই আশপাশের গ্রামের মানুষ দল বেঁধে নদীতে আসেন। কেউ মাছ ধরছেন, কেউ আবার নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে স্বজনদের উৎসাহ দিচ্ছেন। মাছ ধরার এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন উৎসুক দর্শনার্থীরাও। সব মিলিয়ে নদীপাড় পরিণত হয় এক আনন্দঘন গ্রামীণ মিলনমেলায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে ঢেপা নদীতে পানি বেড়ে গেলে স্লুইসগেটের কপাট বন্ধ করা হয়। পরে পানি কমতে শুরু করলে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ আটকা পড়ে। প্রতিবছর এ সময় এমন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়েন।
দিনভর মাছ ধরার পর অনেকের জালে ওঠে রুই, কাতলা, পুঁটি, ট্যাংরাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। কেউ নিজেদের পরিবারের খাবারের জন্য মাছ সংগ্রহ করেন, আবার কেউ অতিরিক্ত মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যান।
মাছ ধরার এই আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে নদীর পানিতে নেমে একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের এই দৃশ্য যেন এক দিনের জন্য ফিরিয়ে আনে হারিয়ে যেতে বসা সেই পুরোনো দিনের আনন্দ।
মতামত দিন