ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, একদিনে হাসপাতালে ১,৫৫৮ রোগী
সেপ্টেম্বরেই বাড়ছে সংক্রমণের গতি, চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে—এটি চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট ও চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দেশে হামের প্রকোপও স্বাস্থ্য খাতের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংসে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে কোথায় এডিস মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও নিজ নিজ বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাসই পারে সংক্রমণের বিস্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে।
মতামত দিন