• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯, বুধবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

অভিনেত্রী আজমেরী বাঁ-ধোনের সাবেক স্বামীর চোখে কেমন ছিল তাদের দাম্পত্য জীবন!

  • প্রকাশিত ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
অভিনেত্রী আজমেরী বাঁ-ধোনের সাবেক স্বামীর চোখে কেমন ছিল তাদের দাম্পত্য জীবন!
সংগৃহীত ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি

অভিনেত্রী আজমেরী বাঁ-ধোনের সাবেক স্বামী ২০০২ সালে আর্মীতে মেজর পদে চাকুরিরত থেকে অব্যাহতি নেয়া মাশরুর সিদ্দিকী সনেট ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ জাগো নিউজ24 পত্রিকার সাথে (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত) ইন্টারভিউতে বলেন- 

....‘আমি বাঁধনকে বিয়ে করবো শুনে বাঁধনের কাজিন (যে আমাকে তার সঙ্গে পরিচয় করায়) অনুরোধ করে বিয়েটা যেন না করি। বাঁধন লোভী মেয়ে, তার মধ্যে ঝামেলা আছে। কিন্তু আমি এসব শুনিনি। শোবিজে কাজ করে এমন অনেক পরিচিত লোক আমাকে না করেছিল বিয়েটা না করতে। কিন্তু আমি ওর প্রেমে অন্ধ ছিলাম।'.... 

...‘বিয়ের পর ও আমাকে নানাভাবে মানসিক অত্যাচার করতে থাকে। তার সব খরচ দেয়ার পরও সে প্রতি মাসে হাত খরচের জন্য ১ লাখ টাকা চাইতো আমার কাছে। আমি দিয়েছিও অনেক দিন। মাসের ২ তারিখের মধ্যেই টাকাটা দিতে হতো। নইলে ঘরে চিৎকার চেঁচামেচি করতো সে।’....

...'শুধু তাই নয়, আমার কিছু বিজনেস ছিল। সেগুলোতে পার্টনারশিপ চাইতো বাঁধন।'....

...'আমি যখন সে বাসায় যাই, সেটি তখন চারতলা ছিল। ছাদে কিছু পিলার ছিল পাঁচতলা করার জন্য। সেটি আমি কমপ্লিট করি। পুরো ফ্ল্যাট তুলতে ও সাজাতে-গুছাতে আমার দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা লেগেছে। বাসার ছাদে সুইমিং পুলও করেছিলাম। এই টাকাগুলো আমার পুরো জীবনের সঞ্চয় বলা চলে। লোনও করেছিলাম কিছু। ওই বাসার জন্য আমার মায়ের জমিও বিক্রি করেছি।'....

....‘আমার ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ির কাঁচ ভেঙেছিল বাঁধন। ওর ভাইদের লাঠির আঘাতে আমার বাঁ পাশের হাতের নিচের হাড় ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন আমি চিকিৎসা নিয়েছি সরকারি হাসপাতালে। আমার কাছে সবকিছুর কাগজ আছে, প্রমাণ আছে।’....

...‘বাঁধন এতটাই ছোট মানসিকতার, মেয়েকে স্কুলে আনা নেয়ার জন্য আমি গাড়ি দিয়েছি। সেই গাড়ি নিজে ব্যবহার করে বাঁধন। মেয়ে স্কুলে চলে গেলে গাড়ি নিয়ে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায় সে। ভাবুন, একজনের সঙ্গে আমার ডিভোর্স হয়েছে, আমি কোন লজ্জায় তার জিনিসপত্র ব্যবহার করব! শুধু তাই নয়, মেয়েটাকে একটা পিজা খাওয়াতে নিয়ে গেলেও আমাকে ম্যাসেজ করে ‘টাকা পাঠাও’, এমন মানসিকতা ওর। অসংখ্য ম্যাসেজ আছে ম্যাসেঞ্জারে টাকা চাওয়ার। আর এখনও সে আমাকে সম্পর্ক নতুন করে মীমাংসা করতে বলে। ম্যাসেঞ্জারে কয়েকদিন আগেও টেক্সট করেছে যেন আপোস করে ফেলি।'...


(সম্পূর্ণ ইন্টারভিউ এবং জাগো নিউজের সাবেক সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকারের ফেসবুক পোস্টের লিংক কমেন্টে দেয়া হলো।)  সংগৃহীত তথ্য মহিউদ্দিন ওয়াল।

আমি অসংখ্যবার প্রতিশোধের চক্র বিষয়ে সতর্ক করেছি। ৫ আগস্টের আগেও বলেছি, পরেও বলেছি। জুলাইয়ে কেউ ধানমণ্ডি ৩২ ভাঙার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো? পঙ্গু ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদকে পিটিয়ে মারার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো? মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো? গোপালগঞ্জে শেখ মুজিবের সমাধি গুঁড়িয়ে দিতে যাওয়ার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো? সেখানে ৬ জনকে গুলি করে হ*ত্যার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো? আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ম্যান্ডেট দিয়েছিলো? দেয়নি।

তাহলে এ জিনিসগুলো কেন ঘটলো? কারা ঘটালো? আমরা বারবার বলে এসেছি, আওয়ামী লীগ একটি পুরাতন ও বৃহৎ দল। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ আছে, তাদেরকে ফেয়ার ট্রায়ালে ফেলে বাকিদের জন্য স্বাভাবিক রাজনীতি উন্মুক্ত করে দিতে। কিন্তু করা হলো উল্টোটা। সমাজে আওয়ামী লীগ পরিচয়কে ভয়াবহ মাত্রায় 'আদার্ড' করা হলো। কল্পনাতীত মব-ভায়োলেন্স ও আইনী-সহিংসতার শিকার হলো আওয়ামী লীগ কর্মীরা। হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মীর ছাত্রজীবন শেষ করে দেওয়া হলো। অথচ জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছিলো। বিরুদ্ধে ছিলো বলেই তারা নীরব ছিলো। সরকার বাঁচাতে রাস্তায় নামেনি।

কিন্তু তারা যদি জানতো, উপরের জিনিসগুলো ঘটবে, কেউ ঘরে বসে থাকতো? থাকতো না। আন্দোলনে মৌন সমর্থন দিতো? দিতো না। অসংখ্য পুলিশ অফিসারের ছেলে-মেয়ে রাস্তায় ছিলো। বিনিময়ে কী পেলো? তারা দেখলো যে, আন্দোলনে ঘাপটি মারা রাজাকাররা অসংখ্য পুলিশ অফিসারকে বিভৎসভাবে হ*ত্যা করেছে। 

দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিএনপি উপরের কোনো ঘটনারই বিচার করে নি। উল্টো অভিযোগ আছে, ধানমণ্ডি ৩২ ভাঙায় তারা বুলডোজার সরবরাহ করেছে। এই একটি ঘটনাই জুলাইপরবর্তী রাজনীতি নষ্ট করে দিয়েছে। তার উপর নজিরবিহীন মব-সন্ত্রাস, মাজারে হামলা, মুক্তিযুদ্ধের উপর কল্পনাতীত আঘাত, এ বিষয়গুলো দেশবাসীকে কল্পনাতীত মাত্রায় ভয় পাইয়ে দিয়েছে। জুলাইপক্ষী কোটি কোটি সাধারণ মানুষ প্রতারিত বোধ করেছে। এই সাধারণ মানুষগুলো ছাড়া, বিএনপি বা জামাত, কেউই আওয়ামী লীগের সামনে কোনো বড় শক্তি ছিলো না। ১৭ বছর কে আওয়ামী লীগের কোন লোমটা ছিঁড়তে পেরেছিলো, তা তো আমরা দেখেছি।

একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর রাজনীতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সে-দেশটি ভালোভাবে চালানোর খোয়াব আমরা কী করে দেখি? যাদেরকে এভাবে কর্নার্ড করা হলো, তাদের কাছ থেকে সভ্যতা ভদ্রতা, এসবই বা কী করে আশা করি? এখনও সময় আছে, হিলিংয়ের পথ খুঁজুন। ন্যাশনাল হিলিং। অন্যথায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা জুলাই-ইনফ্লুয়েন্সারদের উপর প্রতিশোধ নিতেই থাকবে। পৃথিবীর যেকোনো কোণায় তারা 'লালবদর' তাড়া করে বেড়াবে। 

একটা ব্যাপার খেয়াল করুন। আওয়ামী লীগ কিন্তু বিএনপির কাউকে আক্রমণ করে না, বিএনপির কাউকে লালবদরও বলে না। কারণ তারা জানে, বিএনপি তাদের প্রকাশ্য রাজনীতিক প্রতিপক্ষ। বিএনপির কেউ পরিচয় লুকিয়ে আন্দোলনও করেনি। তাহলে তারা আক্রমণ করে কাকে? আজমেরি হক বাঁধনকে। আসিফ নজরুলকে। এবং এ ধরণের অজস্র মানুষকে, হোক তারা নারী বা শিশু। কারণ এই মানুষগুলো সমাজে আপোলিটিক্যাল বা বাইপার্টিসান ভাবমূর্তি বহন করতো। 

অথচ আমি নিজে পর্যন্ত স্তম্ভিত হয়ে গেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খানের সাক্ষাৎকার পড়ে। প্রকাশ্য আন্দোলনকারী আর গোপন ষড়যন্ত্রকারী এক জিনিস নয়। আমি অত্যন্ত অবাক হয়েছি যে, শিক্ষক নেটওয়ার্ক নামক 'জাতির বিবেক' সংগঠনটির অনেক সদস্য মূলত কনস্পাইরেটর। তানজিম উদ্দিন তো সরাসরি স্বীকার করেছেন।

আপনি-আমি যতোই চাই, বাঁধনদের উপর আওয়ামী লীগের আক্রমণ আমরা বন্ধ করতে পারবো না। সামনে এটি কমবে না, বরং বাড়বে বলে আশঙ্কা করি। কারণ, পরাজিতের উপর বিজয়ীর যে-গ্রেস, সেটা আমরা দেখাতে পারিনি। 


আর আমরা যারা জাতির বিবেক, তারাই বা কোন মুখে আওয়ামী লীগকে সভ্য হওয়ার পরামর্শ দিই? দিলেই বা কী? তারা আমাদের কথা শুনবে কেন? দেশে অগণিত মানুষ বাঁধনের চেয়ে বহুগুণ জঘন্য হামলার শিকার হয়েছে, তাদেরকে আমরা ন্যায়বিচার দিতে পেরেছি? পারি নি। তাহলে বাঁধন ন্যায়বিচার পাক, এ কথাই বা কোন মুখে বলি? বললেই বা লাভ কী? যুদ্ধে লিপ্ত কোনো পক্ষকে কি সহজে বিচারের মুখোমুখি করা যায়? আজ আমরা যারা বাঁধনের ঘটনায় বুক ছাপড়িয়ে প্রতিবাদ করছি, কই, আমরা তো এর চেয়ে বহুগুণ জঘন্য ঘটনাগুলোয় বুক ছাপড়াইনি। সেগুলো আওয়ামী লীগ পরিচয়ের মানুষদের উপর ঘটেছিলো বলে? আওয়ামী লীগ বাদ দিন, দীপু চন্দ্র দাস বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাত খেতে যাওয়া তোফাজ্জল, বা কুষ্টিয়ার ঐ পীর, তারা তো আওয়ামী লীগ করতো না, তাদের হ*ত্যাকাণ্ডের ক্রেডিবল তদন্ত ও বিচার হয়েছে? হয় নি।

এলিয়েনেশন কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না। যা ঘটছে ও ভবিষ্যতে যা আরও প্রবল মাত্রায় ঘটবে, তা থামানোর একমাত্র উপায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের এলিয়েনেশন বন্ধ করা।"

(লেখকের ব্যক্তিগত আইডি থেকে) লেখাটি পড়ে মনে হয়েছে পজিটিভ ।


সর্বশেষ