• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯, বুধবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ঝিনাইগাতীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর, অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছেন প্রধান শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০৩:০৯ অপরাহ্ন বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ঝিনাইগাতীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর, অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছেন প্রধান শিক্ষক
Time Bangla news
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুরা এআরপি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জাল-জালিয়াতি এবং বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) শেরপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তুষার তুহিন এ অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, ১৯৮৭ সালে মাত্র দুইজন শিক্ষকের আবেদনের ভিত্তিতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মোহাম্মদ মতিউর রহমান সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট পদে কমপক্ষে তিনজন শিক্ষকের আবেদন থাকার কথা থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মুজাফফর আলীর মৃত্যুর পর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহায়তায় অনিয়মের মাধ্যমে পাঁচজন সিনিয়র শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে মতিউর রহমান প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় থাকা মার্কেটের ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। একই সঙ্গে মতিউর রহমানের পূর্বের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের বৈধতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়াও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মতিউর রহমান। তিনি বলেন, অভিযোগকারী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তুহিন (তুষার) প্রথমে তার কাছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের বিষয়ে এসেছিলেন। বিষয়টি তার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি এমপি মহোদয়ের দেওয়া ডিও লেটার নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তুহিন (তুষার) প্রধান শিক্ষকের এ বক্তব্য সঠিক নয় দাবি করে বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের অবসরের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকায় তিনি ওই প্রস্তাবনা না পাঠিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শেরপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি এবং তা মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবেন।”

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো কোনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

সর্বশেষ