শজিমেক হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ
উত্তরবঙ্গের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। তবে হাসপাতালের সেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ করে আসছেন রোগী ও স্বজনরা।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যন্ত কোথাও কোথাও দালালদের তৎপরতা রয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। রোগীদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক সময় বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক রোগী ও স্বজন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ, শয্যা সংকট, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং কিছু স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতির কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের। বিশেষ করে টয়লেট ও ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও আরও কঠোর তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন রোগী ও সচেতন মহলের অনেকে। তাদের অভিযোগ, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।
রোগী ও সচেতন মহলের দাবি, শজিমেক হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, শয্যা ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল শজিমেক হাসপাতাল। তাই সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পান—এটাই এখন রোগী ও স্বজনদের প্রধান প্রত্যাশা।
মতামত দিন