*গেজেট-বঞ্চিত ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সোমবার।*
*উপশিরোনাম:* ৫৭ জনের নাম না থাকায় তৈরি হয় প্রশ্ন; সনদ ও মেডিকেল জটিলতায় ১১ জন বাদ, বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের উদ্যোগ।
৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সাময়িকভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকা ৪৬ প্রার্থীর নিয়োগের জটিলতা কাটতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার তাদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার নিজ দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির আগে কিছু নির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে নথি উপস্থাপনের প্রক্রিয়াও শেষ করা হচ্ছে। এরপর সোমবার বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তিনি জানান, ৪৯তম বিসিএসের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ পিএসসির চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন ৬৬৮ জন। ফলে ৫৭ জনের নাম গেজেটে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
*স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী,* ওই ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন নির্ধারিত মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ কারণে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রকৃত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ জন।
তবে গেজেট থেকে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিয়োগের আগে নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
গেজেটে নাম না থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলাল রয়েছেন। তার দাবি, ৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণ বিষয়ে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। গেজেট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান, জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না।
একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বুশরা জাহান ঐশীও গেজেটে নাম না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, ইংরেজি বিষয়ে তার মেধাক্রম ছিল ১৪তম। তার আগে ও পরে থাকা প্রার্থীদের নাম গেজেটে থাকলেও তার নাম নেই। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই।
এদিকে গেজেটে নাম না আসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জসিম উদ্দিন আগামী ১২ অক্টোবর রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘আত্মাহুতি’র ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। তার দাবি, প্রায় ১০ মাস ধরে ভেরিফিকেশন ও রিভেরিফিকেশন চলার পরও তাকে চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় হয়রানির অভিযোগও করেছেন তিনি।
তার এমন ঘোষণায় সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
*গেজেটের দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ*
৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মিছিলটি কলাভবন ও মধুর ক্যানটিন ঘুরে ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
*পিএসসির বক্তব্য*
গেজেটে নাম না থাকার বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম মতিউর রহমান বলেন, পিএসসি সুপারিশকারী প্রতিষ্ঠান; আর নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়। তাই নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
গত বছরের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পিএসসি।
সোমবার ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে ৪৯তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতার বড় একটি অংশের নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মতামত দিন