• ২০২৬ অক্টোবর ১৬, শুক্রবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও গাড়িচালকদের হয়রানির অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৬:১০ অপরাহ্ন শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও গাড়িচালকদের হয়রানির অভিযোগ
Time Bangla news
মতিউল ইসলাম, কক্সবাজার প্রতিনিধি:

রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও গাড়িচালকদের হয়রানির অভিযোগ

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, কাগজপত্রবিহীন যানবাহন অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং সাধারণ গাড়িচালকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলে অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও কিছু যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হয়। এমনকি নির্দিষ্ট টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা নামার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে চেকপোস্টের নামে চালকদের হয়রানি করা হয়। যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় চাহিদামতো টাকা না দিলে বিভিন্ন আইনের অজুহাতে চালকদের ভোগান্তিতে ফেলা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ছেড়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের কিছুটা আগে একটি লাল রঙের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লোহার খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় সোহেল নামের এক পুলিশ সদস্যসহ হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গাড়িটি থানা বা সংশ্লিষ্ট হেফাজতে না নিয়ে অন্যত্র ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে সাধারণ সিএনজিচালকদের নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়, অন্যদিকে প্রভাবশালী বা অর্থ দিতে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রামু ক্রসিং হাইওয়ে থানার সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে থানার সেকেন্ড অফিসার ফজলু ফোন রিসিভ করেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় কারও অভিযোগ না থাকলে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি ছেড়ে দিতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।

তবে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, রামু চা-বাগান এলাকাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনচালকদের হয়রানি করা হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই, কথিত টোকেন ব্যবস্থার অস্তিত্ব অনুসন্ধান এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্তের দাবি উঠেছে।

মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্য হলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ