• ২০২৬ অক্টোবর ১৯, সোমবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মাতারবাড়ী ঘিরে টোকিওর অর্থনৈতিক চাল, সম্ভাবনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ।*

  • প্রকাশিত ০৭:১০ অপরাহ্ন সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মাতারবাড়ী ঘিরে টোকিওর অর্থনৈতিক চাল, সম্ভাবনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*মাতারবাড়ী ঘিরে টোকিওর অর্থনৈতিক চাল, সম্ভাবনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ।* 


 **উপশিরোনাম:* বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প করিডোর গড়তে চায় টোকিও | বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা। 

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে শিল্প ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে জাপান। *এ পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা।* বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই টোকিওর অন্যতম লক্ষ্য।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর এক প্রতিবেদনে জাপানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতারবাড়ীকে ঘিরে একটি সমন্বিত ‘শিল্প ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে চায় জাপান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতির সংযোগও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 *২০২৬-৩১ মেয়াদের সহযোগিতায় গুরুত্ব পেতে পারে মাতারবাড়ী* 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। এসব প্রকল্পের মধ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও রয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ এবং বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাতারবাড়ী শুধু বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে বন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি সড়ক, রেল, সীমান্ত যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন হবে।

 *বিকল্প সমুদ্রপথ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা* 

নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। বর্তমানে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বোসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। মাতারবাড়ী চালু হলে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহন, আমদানি-রপ্তানির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপানি কূটনীতিকেরা এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। জাপানের অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সহায়তায় ওই অঞ্চলে যে অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে উঠেছে, মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক উদ্যোগেও তেমন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় টোকিও।

দ্য হিন্দুকে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে জাপানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্যাংকককে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিজস্ব বন্দর ও সাউদার্ন ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে ব্যাংকক বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

 **ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারকে যুক্ত করার ভাবনা* 

মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। ফলে মাতারবাড়ী বন্দরের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফল পেতে আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 *রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও বড় বিবেচ্য* 

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পটির বড় অংশের অগ্রগতি হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।

সে সময় ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বও সামনে এনেছে। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে বন্দরকেন্দ্রিক বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৌৌবাধা তৈরি হতে পারে।

 *প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাড়ছে আলোচনা* 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগও রয়েছে।

সব মিলিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে জাপানের পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা কতটা বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে বন্দরের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার ওপর।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু।

সর্বশেষ