এসএসসি পাসের ১৫ বছর পর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন গৃহিণী রীতি খাতুন
স্বামীর অনুপ্রেরণায় সংসার সামলে পড়াশোনা, সাফল্যে আনন্দিত পরিবার ও এলাকাবাসী
স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহিম
সংসারের দায়িত্ব, কন্যাসন্তানের লালন-পালন কিংবা বয়সের ব্যবধান—কোনো বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নশিরপুর গ্রামের গৃহিণী রীতি খাতুনের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। এসএসসি পাসের দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
রীতি খাতুন প্রমাণ করেছেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের কোনো পর্যায়েই শিক্ষার পথ থেমে থাকে না। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এমন অসাধারণ সাফল্যে পরিবার-পরিজনসহ পুরো নশিরপুর গ্রামে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
জানা যায়, সংসারের নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল রীতি খাতুনের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে একটি কন্যাসন্তানের লালন-পালন ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলে নিয়মিত পড়াশোনা করা সহজ ছিল না। তবে স্বামীর অকুণ্ঠ সমর্থন ও অনুপ্রেরণা তাঁকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে। সেই সাহস ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, একজন গৃহিণী হয়েও শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে রীতি খাতুনের এই অর্জন অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, বয়স কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব কখনোই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না।
এদিকে তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা বলেন, রীতি খাতুনের একাগ্রতা, অধ্যবসায় এবং তাঁর স্বামীর সহযোগিতা সমাজে শিক্ষার প্রসারে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রীতি খাতুনের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সংসার ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে চাওয়া অসংখ্য নারীর জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।
মতামত দিন