*মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা, ন্যানো ফিসফিডের পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক জাভেদ।*
*উপশিরোনাম:* ন্যানোপ্রযুক্তির এ উদ্ভাবনে পেটেন্ট অনুমোদন, কম খাদ্যে অধিক মাছ উৎপাদন ও পানিদূষণ কমানোর নতুন সম্ভাবনা।
মাছের খাদ্যের অপচয় কমিয়ে পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং তুলনামূলক কম খাবারে অধিক মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে দেশীয় উদ্ভাবন ‘ন্যানো ফিসফিড’। এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানোপ্রযুক্তি গবেষক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান।
গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তাঁর উদ্ভাবিত ন্যানো ফিসফিডের পেটেন্ট অনুমোদন দেয়। এর আগে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের জন্যও পেটেন্ট পেয়েছিলেন এই গবেষক।
গবেষক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা খাদ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মাছ খেতে পারে না। এসব অব্যবহৃত খাদ্য পুকুরের তলদেশে জমে পানির গুণগত মান নষ্ট করে। পাশাপাশি শ্যাওলা, দূষিত গ্যাস ও ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হয়ে মাছের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাছের মৃত্যুও ঘটে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় তৈরি ন্যানো ফিসফিডে ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলোকে ন্যানো পর্যায়ে রূপান্তর করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এর ফলে অল্প পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করেও মাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে খাদ্যের অপচয় এবং পানিতে অব্যবহৃত খাবার জমে দূষণ সৃষ্টির আশঙ্কাও কমবে।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) আরটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশে মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও প্রচলিত খাদ্যের অপচয় ও পানিদূষণ এ খাতের অন্যতম সমস্যা। মাছের খাদ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আমদানির ক্ষেত্রেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।
তিনি জানান, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে ন্যানো ফিসফিড তৈরির কাজ শুরু করেন তাঁরা। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে খাদ্যের অপচয় কমানো, পানির গুণগত মান বজায় রাখা এবং কম খাদ্যে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের প্রত্যাশা, ন্যানো ফিসফিডের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি মাছ চাষের ব্যয় কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশীয় এই উদ্ভাবন বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের মৎস্য খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোরও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মতামত দিন