• ২০২৬ নভেম্বর ০৮, রবিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সৌরবিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ, ২০২৮ সালের মধ্যে গ্রিডে আসছে ৯১৮ মেগাওয়াট।*

  • প্রকাশিত ০৩:১১ অপরাহ্ন রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
সৌরবিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ, ২০২৮ সালের মধ্যে গ্রিডে আসছে ৯১৮ মেগাওয়াট।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*সৌরবিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ, ২০২৮ সালের মধ্যে গ্রিডে আসছে ৯১৮ মেগাওয়াট।* 


 *উপশিরোনাম:* আমদানিনির্ভর জ্বালানির চাপ কমাতে ১২ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি, দেশজুড়ে বাড়ছে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি ১২টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এসব প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, আগে চুক্তি হওয়া একই ধরনের প্রকল্পের তুলনায় এই দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি নির্মিত হবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্র ছাড়াও পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হবে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র।

এ ছাড়া মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা ও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে ছোট-বড় আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানও ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে তিনটি প্রকল্পই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো সরকারের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি জানান, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে বিপিডিবি। অন্যদিকে, ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি)। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

 *ছাদেও বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার* 

বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত রয়েছে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। বাকি ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে গ্রিডের বাইরে।

নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিপিডিবি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী মনে করেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণ মানুষকে নিজস্ব অর্থায়নে বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের চাপও কমবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এ লক্ষ্যের কথা জানান।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকেই ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্স প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যয় ও সরবরাহের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: বাসস

সর্বশেষ