অনৈতিক সম্পর্কের জেরে আরবি শিক্ষককে হত্যা, নারীসহ গ্রেপ্তার ২
অনৈতিক সম্পর্কের জেরে সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁওয়ে শোয়েবুর রহমান শিহাব (৩০) কে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আব্দুল মতিন (৪৫) ও খালেদা বেগম (৩২)। খালেদা বেগমের বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে থেকে তার সন্তানদের আরবি পড়াতেন নিহত শিহাব।
শুক্রবার খালেদা ও মতিনকে শাহপরান থানাধীন সোনারপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শনিবার সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। শনিবার এই দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলেও জানায় পুলিশ।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ের ঝোপঝাড়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান জালালাবাদ থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত শিহাব ২০২৩ সাল থেকে খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় শিহাব বাসার সার্বিক দেখাশোনা করতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশ আরও জানায়, খালেদা বেগমকে নিহত শিহাব বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার স্বামীর সাথে শিবগঞ্জ উপশহর এলাকায় একটি প্লট যৌথভাবে ক্রয়ের পরিকল্পনা করে ২০ লক্ষ টাকা বায়না দেন। পরবর্তীতে শিহাব পর্তুগাল ও লন্ডনে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমির বায়নার টাকা ও খালেদা বেগমের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা নিয়ে যান।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে পুলিশ আরও জানায়, বিদেশে নিতে ব্যর্থ হলে শিহাবের প্ররোচনায় খালেদা বেগম ও তার সন্তানদের লন্ডনে গমনের ভুয়া নাটক সাজান।
এরপর শিহাব সিলেট তাদের নতুন ভাড়াকৃত বাসায় উঠেন। এক পর্যায়ে লন্ডনে নেওয়ার বিষয়ে চাপ দিলে খালেদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন শিহাব। একইসাথে খালেদা বেগমের মেয়ের সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী শিহাবকে বাদেশ্বর নদীর পাশে কুড়াইল হাওড়ে বেতের ঝোঁপে হত্যা করা হয়। পরে মৃতদেহ বিবস্ত্র করে এবং বস্তা দিয়ে মৃতের মুখসহ অর্ধাংশ ডেকে রাখভা হয়।
মতামত দিন