মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ঈদের মধ্যে গণপরিবহনে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েল-এর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে অতীতের ১৯৭৩ সালের তেল সংকট-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং তেল উৎপাদন অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনের চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পরিবহন খাতেও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে সামনে আসছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করে। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে গণপরিবহন সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনের চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এতে যাত্রী ভোগান্তি যেমন বাড়বে, তেমনি পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।
মতামত দিন