• ২০২৬ মার্চ ১৯, বৃহস্পতিবার, ১৪৩২ চৈত্র ৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৩ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিলবোর্ড-ফেস্টুন না লাগানোর আহবান, অতঃপর নিজেই লাগালেন!

  • প্রকাশিত ০৪:০৩ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিলবোর্ড-ফেস্টুন না লাগানোর আহবান, অতঃপর নিজেই লাগালেন!
time bangla
সিলেট অফিস :

সাম্প্রতিক সময়ের হ-য-ব-র-ল সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। নগর ভবনের দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বেশ কিছু ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজও করেছেন। তার কাজে নগরবাসীও বেজায় খুশি। এমন ধারাবাহিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে গত ১১ মার্চ আসন্ন পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে বিলবোর্ড-ফেস্টুন লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট না করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি।

নগর ভবনের গণসংযোগ দপ্তর থেকে ‘ঈদ উপলক্ষে বিলবোর্ড-ফেস্টুন লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট না করার আহ্বান সিসিক প্রশাসকের’ শিরোনামে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহবান জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট না করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিসিক প্রশাসক বলেন, ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর নামে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, ফুটপাত, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও দেয়ালে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানোর প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এতে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং অনেক সময় পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নগরের যেখানে-সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ড লাগালে শহরের নান্দনিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই সিলেট একটি পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত নগর হিসেবে গড়ে উঠুক।

তিনি আরও বলেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষা করা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে নগরের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট একটি ঐতিহ্যবাহী ও পর্যটনসমৃদ্ধ নগর। এই নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও সুন্দর সিলেট নগর গড়ে তুলি।’

তবে বুধবার নগরঘুরে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। পুরো সিলেট নগরী ছেয়ে গেছে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফ্যাস্টুনে। আর এই প্রতিযোগিতা থেকে বাদ যাননি খোদ সিসিকের প্রশাসকও। সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোদ সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর ফ্যাস্টুন শোভা পাচ্ছে। আর এমনটি দেখে নগরীর সর্বত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার, ফ্যাস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানোর হিড়িক পড়েছে। এটি নিয়ে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার এক জুতা ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নগর ভবনে দীর্ঘদিন থেকে জনগনের প্রতিনিধি না থাকার করলে সার্বিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল। একজন রাজনীতিবীদকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি তিনি নিজের দেয়া কথা নিজেই রাখছেন না। তিনি কাজের চেয়ে মিডিয়ায় আলোচনায় থাকতে বেশী পছন্দ করেন।

সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ আহমদ বলেন, নতুন প্রশাসক নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে লম্বা লম্বা কথা বলেছেন, সবাইকে বিলবোর্ড, ফ্যাস্টুন লাগাতে নিষেধ করেছেন, আর এখন নিজের ফ্যাস্টুন দিয়ে সবদিক ছয়লাভ করে দিয়েছেন। আসলে লঙ্কায় যে যান তিনিই রাবনের ভুমিকায় অবতীর্ণ হন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ব্যানার-ফেস্টুন না টাঙানোর জন্য সবাইকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে এবং নগরবাসীর প্রতি এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগরীতে যেসব অবৈধ ফেস্টুন বা ব্যানার টাঙানো হচ্ছে, সেগুলো সিসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অপসারণ করে নিয়ে আসবে। তবে অনুমোদিত বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে সিসিক রাজস্ব পেয়ে থাকে, যা নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

নিজের নামে কোনো ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, তার নামে কোনো ব্যানার বা ফেস্টুন নেই। তিনি দাবি করেন, নগরীতে যা কিছু আছে, সবই সিসিকের রাজস্ব কাঠামোর আওতায় রয়েছে।

সর্বশেষ